একটি রণতরিসহ যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের একটি বহর ইরানের দিকে পাঠালেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেন, আমাদের একটি যুদ্ধজাহাজের বহর ইরানের দিকে যাচ্ছে, তবে হয়তো আমাদের তা ব্যবহার করতে হবে না।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি থেকে সরে আসার পর নৌবাহিনীর রণতরী পাঠানোর ঘোষণা এলো।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম থেকে ফেরার সময় এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানের উপর নজর রাখছি। আমাদের একটি বিশাল বাহিনী ইরানের দিকে যাচ্ছে। আমি কিছু ঘটতে দেখতে চাই না, তবে আমরা তাদের খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি।’
তিনি আরও বলেন ‘আমাদের একটি যুদ্ধজাহাজের বহর সেদিকে যাচ্ছে, হয়তো আমাদের তা ব্যবহার করতে হবে না এবং আমরা দেখব কী হয়।’
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, তেহরানকে আবার সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে বা পারমাণবিক কর্মসূচি আবার চালু করার চেষ্টা করলে তা ইরানকে গুরুতর পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং কয়েকটি গাইডেড মিসাইল ধ্বংসকারী জাহাজ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে।
এক কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আরও বাড়তি আকাশ সুরক্ষাব্যবস্থা স্থাপনের কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে, যা এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোর ওপর ইরানের সম্ভাব্য কোনো হামলা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এই মোতায়েন ট্রাম্পের হাতে আরও কিছু বিকল্প এনে দেবে। যেমন একদিকে এটি বর্তমান উত্তেজনার সময়ে পুরো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে আরও ভালোভাবে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করবে, অন্যদিকে জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার পর প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগও দেবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর গত সপ্তাহে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের দিকে চলতে শুরু করে।
ডিসেম্বরের ২৮ তারিখ থেকে ইরানে ওই বিক্ষোভ শুরু হয়, টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ চলে। গত সপ্তাহ থেকে বিক্ষোভ স্তিমিত হয়ে এসেছে। বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া নিয়ে গত সপ্তাহেই ট্রাম্প ইরানকে সবচেয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। পরে ইরান বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করা থেকে সরে আসে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনিই বন্দী বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি আটকে দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, তার হুমকির পর ইরান প্রায় ৮৪০ জনের ফাঁসি বাতিল করেছে।
ট্রাম্প ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনায় বারবার হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, আপনারা যদি ওই লোকগুলোকে ফাঁসি দেন, তাহলে আপনাদের ওপর এমন আঘাত আসবে, যা আগে কখনো আসেনি। তখন আপনাদের ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে আমরা যা করেছি, সেটাও অনেক ক্ষুদ্র বলে মনে হবে।’
ইরানের কর্মকর্তারা অবশ্য সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরিকল্পনা অস্বীকার করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে বিক্ষোভে ৩,১১৭ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ২,৪২৭ জন বেসামরিক নাগরিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছে।