Friday 06 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

এপস্টেইন ফাইল
নরওয়েতে তদন্তের হিড়িক, বিপাকে ব্রিটিশ রাজপরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:০০ | আপডেট: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:০১

ছবি: সংগৃহীত

কুখ্যাত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত কয়েক লাখ পৃষ্ঠার নতুন নথি প্রকাশের পর ইউরোপজুড়ে রাজনৈতিক ভূমিকম্প শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নরওয়েতে তাদের নিজস্ব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনো এই বিষয়ে বড় কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা না নিলেও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, রাজপরিবার এবং প্রভাবশালীদের ওপর চাপ বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দু নরওয়েতে এই স্ক্যান্ডালের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। দেশটির রাজবধূ ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিট পুনরায় ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। নতুন নথিতে দেখা গেছে, ২০০৮ সালে এপস্টেইন শিশু যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরেও তার সঙ্গে প্রিন্সেসের নিয়মিত ইমেইল যোগাযোগ ছিল।

বিজ্ঞাপন

পাশাপাশি নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নোবেল কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান থরবজর্ন জ্যাগল্যান্ড-এর বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে পুলিশ। এ ছাড়া দেশটির বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রধান বোর্জ ব্রেন্ডেও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন। নরওয়ের পার্লামেন্ট এখন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এপস্টাইনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু পিটার ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি তাকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। অন্যদিকে, রাজপরিবার থেকে বহিষ্কৃত প্রিন্স অ্যান্ড্রু-কে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য চাপ ক্রমশ বাড়ছে।

স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদত্যাগ করেছেন। এপস্টাইনের সঙ্গে তার ইমেইলে তরুণীদের নিয়ে বিতর্কিত আলোচনার তথ্য ফাঁস হয়েছে।

ফ্রান্সের সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী জ্যাক ল্যাং-এর ওপর পদত্যাগের চাপ বাড়ছে।

নরওয়ের কূটনীতিক মোনা জুল এবং তার স্বামী তেরজে রোয়েড-লারসেন, যারা নব্বইয়ের দশকে বিখ্যাত ‘অসলো শান্তি চুক্তি’র নেপথ্যে কাজ করেছিলেন, তারাও এখন তদন্তের আওতায়। মোনা জুলকে বর্তমানে তার পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

নরওয়ের রাজপরিবার এমনিতেই সংকটে রয়েছে। ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিটের আগের সম্পর্কের সন্তান মারিয়াস বর্তমানে ধর্ষণ এবং পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি। এর মধ্যেই এপস্টাইন কেলেঙ্কারি রাজপরিবারের ভাবমূর্তিকে চরম সংকটে ফেলেছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর