ইরানের সঙ্গে একটি দ্রুত এবং লোকদেখানো ‘ফ্রেমওয়ার্ক ডিল’ বা রূপরেখা চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনভিজ্ঞ মার্কিন প্রতিনিধি দল এমনটাই আশঙ্কা করছেন ইউরোপীয় কূটনীতিকরা। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার সমাধান না করে কেবল রাজনৈতিক সাফল্যের প্রচার পেতে করা এই চুক্তি ভবিষ্যতে আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য দেওয়া হয়।
ইউরোপীয় কূটনীতিকদের ভয়, হোয়াইট হাউজ একটি অগভীর চুক্তিতে সই করে নিষেধাজ্ঞার মুক্তি ও পারমাণবিক সীমাবদ্ধতা ঘোষণা করবে। কিন্তু পরে যখন কারিগরিভাবে জটিল বিষয়গুলো সামনে আসবে, তখন তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
কূটনীতিকদের মতে, মার্কিন প্রতিনিধি দলে এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞের অভাব রয়েছে। তাদের দাবি, ২০১৫ সালের জেসিপিওএ চুক্তির সময় প্রায় ২০০ বিশেষজ্ঞ কাজ করেছিলেন, যা বর্তমান মার্কিন দলে অনুপস্থিত।
২০১৫ সালের চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে ১২ বছর সময় লেগেছিল। ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রশ্ন—যে কাজ বছরের পর বছর ধরে করা হয়েছে, তা কি মাত্র কয়েক ঘণ্টার আলোচনায় সম্ভব?
আলোচনার টেবিলে যা আছে
১. ইউরেনিয়াম মজুদ: ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে। এটি ধ্বংস করা বা বিদেশে (তুরস্ক বা ফ্রান্সে) সরিয়ে নেওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে।
২. নিষেধাজ্ঞা ও অর্থ: ইরান দ্রুত তাদের বিদেশে আটকে থাকা অর্থ ফেরত চায়। তবে স্থায়ী অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সমর্থন প্রয়োজন হবে।
৩. নিরাপত্তা গ্যারান্টি: যুদ্ধের অভিজ্ঞতার পর ইরান এখন একটি ‘অনাগ্রাসন চুক্তি’ বা হামলার বিরুদ্ধে গ্যারান্টি দাবি করছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র আনা কেলি এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময় ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে সেরা চুক্তি করতে সক্ষম।
মার্কিন রেডলাইনগুলোর মধ্যে রয়েছে; ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করা, প্রধান স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
ইউরোপের বর্তমান ভূমিকা
ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানি যারা ২০০৩ সাল থেকে এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে, তারা বর্তমানে নিজেদের কিছুটা কোণঠাসা মনে করছে। তবে তারা সতর্ক করেছে, পারমাণবিক চুক্তির প্রতিটি শব্দ এবং ধারা গুরুত্বপূর্ণ; তাই এটি নিয়ে তাড়াহুড়ো করলে হিতে বিপরীত হতে পারে।