ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরপরই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথ হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে ইরান। ইরানি কমান্ডোরা একটি বিশাল মালবাহী জাহাজে দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে সেটি নিজেদের কব্জায় নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশধারী কমান্ডোরা স্পিডবোটে এসে দড়ির মই বেয়ে ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ নামক জাহাজে চড়ছে। ইরান দাবি করেছে, তারা ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ এবং ‘এপামিনোন্ডাস’ নামে দুটি জাহাজ আটক করেছে। তাদের অভিযোগ, কোনো অনুমতি ছাড়াই জাহাজ দুটি প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করছিল।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনও পাল্টা অবস্থান নিয়েছে। ভারত মহাসাগরে ‘ম্যাজেস্টিক’ নামক একটি সুপারট্যাঙ্কারে তল্লাশি চালিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। ওই ট্যাঙ্কারটিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পুর্ণ নিয়ন্ত্রণে’। ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই পথটি কার্যত সিল করে রাখা হবে।
গত মঙ্গলবার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে শান্তি আলোচনা বাতিল হয়ে যায়। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে নেয় এবং জব্দ করা ইরানি জাহাজগুলো মুক্তি দেয়, তবেই তারা পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় নতুন আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা বিবেচনা করবে।
এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ফের বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০২.৬৮ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানির এই সংকটে কলকারখানার উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।
ইরানি সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তেহরানের এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, এটি যুদ্ধও নয়, আবার শান্তিও নয়—এক অদ্ভুত আতঙ্কের পরিবেশ। যেকোনো মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল হামলা চালাতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।
যুদ্ধ চলাকালীন পরিস্থিতির মধ্যেই পেন্টাগনে বড় পরিবর্তন এনেছেন ট্রাম্প। জাহাজ নির্মাণ সংক্রান্ত মতবিরোধের জেরে নৌবাহিনী সচিব জন ফেলানকে বহিষ্কার করা হয়েছে।