পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা এখনও চলছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বিজেপি ৪০টি আসনে জয়ের পাশাপাশি ২০৬ আসনে এগিয়ে, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ১৫টি আসনে জয়ের পাশাপাশি এগিয়ে আছে ৮১ আসনে। অর্থাৎ সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮ আসনের চেয়ে বেশিই পাচ্ছে বিজেপি। এই সম্ভাব্য জয়ের পেছনে ৫টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে বিজেপি।
এগুলো হলো—
নারীদের ভোট
দলীয় সূত্রের দাবি, নারীদের জন্য সংরক্ষণ চালুর উদ্যোগ বিজেপির পক্ষে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিরোধীদের ‘নারীবিরোধী’ হিসেবে উপস্থাপন করায় নারী ভোটারদের অন্তত ৫ শতাংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে। ভোটার তালিকা অনুযায়ী, মোট ৬.৪৪ কোটি ভোটারের মধ্যে নারী ভোটার প্রায় ৩.১৬ কোটি—যা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকারি কর্মী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের সমর্থন
সরকারি কর্মীদের অসন্তোষ, বেতন কমিশন ইস্যু এবং চাকরির সুযোগ নিয়ে অসন্তুষ্টি বিজেপির পক্ষে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে সপ্তম বেতন কমিশন বাস্তবায়ন এবং শূন্যপদ পূরণে প্রতিশ্রুতি প্রায় ২০ থেকে ৫০ লাখ সরকারি কর্মচারী ও তরুণ ভোটারদের প্রভাবিত করেছে।
উন্নয়ন ইস্যুতে কেন্দ্র বনাম রাজ্য বয়ান
বিজেপি কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে সামনে এনে রাজ্য সরকারের উন্নয়ন ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরেছে। “মোদি বনাম মমতা” বয়ানটি মধ্যবিত্ত ও নতুন ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে বলে দলটির দাবি। প্রায় ৫.২৩ লাখ নতুন ভোটার এবং ২০-২৯ বছর বয়সী বিপুল সংখ্যক তরুণ ভোটার এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
নিরাপত্তা ও সরকারবিরোধী মনোভাব
নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ভোটারদের আস্থা বাড়িয়েছে বলে মনে করছে বিজেপি। এতে মানুষ এবার নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছেন। একই সঙ্গে আর জি কর কাণ্ডের প্রভাব এবং রাজ্যের শাসকদলের ১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী মনোভাবকে আরও উসকে দিয়েছে।
ভোটার তালিকা সংশোধন ও ‘বহিরাগত’ ইস্যু
স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশনের (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং “বহিরাগতদের” নাম বাদ দেওয়ার প্রচারণাও বিজেপির পক্ষে কাজ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২৭ লাখ নাম বাদ পড়েছে, যা নির্বাচনি ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিজেপির মতে, এর ফলে প্রকৃত ভোটাররা সঠিকভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন।