ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার অগ্রাধিকার ঠিক করলে দিল্লি ঢাকার সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুই দেশের মধ্যে যে টানাপোড়েন ছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক সামনে এগিয়ে নিতে চায় ভারত সরকার।
নয়াদিল্লিতে সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সোমবার (০৪ মে) এমনটাই জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি।
তিনি তিস্তার পানিবণ্টন, গঙ্গা চুক্তির নবায়ন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবাসন, বাংলাদেশ নিয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন, ভিসাসহ নানা বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।
বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘পারস্পরিক মর্যাদা ও স্বার্থের ভিত্তিই হবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মূল ভিত্তি। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে আগ্রহী। ভারত এই সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়।বাংলাদেশ তার অগ্রাধিকারগুলো নির্ধারণ করলে আমরা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। আমরা বিশ্বাস করি, দুই দেশের জনগণের কল্যাণে উভয় পক্ষ একসঙ্গে কাজ করবে।’
গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় তিন দশক আগের এই চুক্তিটি অত্যন্ত কার্যকরভাবে কাজ করেছে এবং প্রতিষ্ঠিত প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমেই এটি নবায়ন করা হবে। ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রশ্নে সরাসরি কোনো জবাব দেননি বিক্রম মিশ্রি। তিনি কেবল বলেন, সব বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বাস্তবসম্মত উপায়ে যোগাযোগ বাড়াতে চায় ভারত।
বিগত আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নির্বাচনে ভারতের সমর্থনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ নেতা নির্বাচন করে। অতীতে বাংলাদেশের সব সরকারের সঙ্গে কাজ করেছে ভারত। নির্বাচনে হস্তক্ষেপের কোনো কারণ নেই।