Friday 09 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বিদেশি কর্মী নিয়োগে মাইক্রোসফটসহ ৮টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৯ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৪৬ | আপডেট: ৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:২৯

প্রযুক্তি খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের মাইক্রোসফটে কাজ করার আগ্রহ থাকে। ছবি: বিবিসি

এইচ-১বি ভিসা জটিলতার জেরে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের স্থায়ী নিয়োগে মাইক্রোসফটসহ প্রযুক্তি খাতের আটটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হোয়াইট হাউস।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক অনুষ্ঠানে অভিযোগ করেন, বিদেশি ও দক্ষ কর্মী নিয়োগে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার করছে আটটি প্রতিষ্ঠান।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা, উইপ্রো, এইচসিএল ও ক্যাপজেমিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স দাবি করেন, আমেরিকার সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানিগুলোর একটি মাইক্রোসফট কার্যত আমেরিকান কর্মীদের বদলে ‘বিদেশি চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক’ নিয়োগ করছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি এবং বিদেশ থেকে আসা কর্মীদের স্থায়ী মার্কিন বাসিন্দা হওয়ার সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জালিয়াতির অভিযোগ করেছেন।

ভ্যান্স বলেন, ‘আমেরিকার অন্য কোনো কোম্পানি মাইক্রোসফটের চেয়ে বেশি এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করেনি।’

তিনি অ্যাডোবি, কগনিজেন্ট, ইনফোসিস, টাটা, উইপ্রো, এইচসিএল এবং ক্যাপজেমিনির বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ করেন।

এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমমন্ত্রী কিথ সোন্ডারলিং বলেন, পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন প্রোগ্রামের (পিইআরএম) আওতায় মাইক্রোসফট, টাটা, ইনফোসিসসহ ওই আট প্রতিষ্ঠানের নতুন ও চলমান কোনো ভিসা আবেদন আর প্রক্রিয়া করা হবে না।

সন্ডারলিং এও বলেন যে, মাইক্রোসফটের মতো কোম্পানি এবং মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ‘ভিসা তৈরির কারখানায়’ পরিণত হয়েছে, যারা আমেরিকাকে বিদেশি কর্মী দিয়ে ‘ভাসিয়ে’ দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগে পিইআরএম একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রতি বছর দেশটিতে প্রায় ৮৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা দেওয়া হয়।

এর আগে মাইক্রোসফটের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে জানান, গত অর্থবছরে মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে করা এইচ-১বি ভিসার আবেদনের ৮০ শতাংশ ছিল আগে থেকেই কর্মরতদের জন্য। এসব আবেদন নতুন কর্মী নিয়োগের জন্য ছিল না।

তবে জে ডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন, মাইক্রোসফট গত অর্থবছরের প্রায় ৬ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। একই সময়ে এইচ–১বি ভিসার জন্য কোম্পানিটি ৬ হাজার ৮০০টি আবেদন করেছে।

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, গত অর্থবছরে দাখিল করা বেশিরভাগ এইচ-১বি ভিসা ছিল বিদ্যমান কর্মীদের জন্য, যাদেরকে স্থানীয় কর্মীদের সমান বেতন দেওয়া হয়।

সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস কনফারেন্সে জেডি ভ্যান্স। ছবি: বিবিসি

মার্কিন কর্মীদের পরিবর্তে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেওয়া এবং তাদের মজুরি কমিয়ে দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এসব তথ্য জানান।

বিশ্বজুড়ে মাইক্রোসফটে দুই লাখের বেশি কর্মী কর্মরত আছেন। কোম্পানিটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কর্মীদের ‘বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ’ মার্কিন নাগরিক।

বিদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়ায় অনেক প্রযুক্তি কোম্পানিকে সহায়তা করে এমন একটি কোম্পানি এলিসের মতে, মাইক্রোসফটে একজন এইচ-১বি কর্মীর গড় বেতন এক লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার।

মাইক্রোসফটের মুখপাত্র বলেন,‘আমরা প্রশাসনকে অতিরিক্ত তথ্য সরবরাহ করার জন্যও উন্মুখ হয়ে আছি’।

বৃহস্পতিবার ভ্যান্সের সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মাইক্রোসফট।

ভ্যান্স বলেন, ‘মাইক্রোসফটের প্রতি আমাদের বার্তা খুবই সহজ: আপনারা একটি মহান আমেরিকান কোম্পানি, আপনাদেরকে অবশ্যই আমেরিকান কর্মী নিয়োগ করতে হবে। আপনারা আমেরিকান কর্মীদের ছাঁটাই করে তাদেরকে বিদেশি চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে পারেন না।’

তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, বিদেশ থেকে আসা কর্মীদের সম্পর্কে তার এভাবে উল্লেখ করার কারণ হলো, যে কোম্পানি বা সংস্থা তাদের ভিসা স্পনসর করেছে, সেই কোম্পানি থেকে তাদের চাকরিচ্যুত বা ছাঁটাই করা হলে তাদের আমেরিকা ‘ছেড়ে যেতে হয়’।

সাধারণত, এমন পরিস্থিতিতে একজন কর্মী ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড পান। গত মাসে, মার্কিন সরকার সেই গ্রেস পিরিয়ডও সম্পূর্ণভাবে বাতিল করার প্রস্তাব করেছিল।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর