Sunday 24 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

হোয়াইট হাউজের নিরাপত্তাচৌকিতে গুলি
মার্কিন প্রশাসনের পালটা হামলায় বন্দুকধারী নিহত

আর্ন্তজাতিক করেসপন্ডেন্ট
২৪ মে ২০২৬ ১২:২৬ | আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ১২:৫৩

হোয়াইট হাউসের পাশে সিক্রেট সার্ভিসের সদস্য। এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউজের কাছে আবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। হোয়াইট হাউজের কাছে নিরাপত্তাচৌকিতে এক বন্দুকধারী গুলি ছোড়েন এর জবাবে সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা পালটা গুলি চালালে ওই ব্যক্তি নিহত হন।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের বরাতে সিক্রেট সার্ভিসের দেওয়া এক বিবৃতি অনুসারে এএফপি খবরে বলা হয়েছে, শনিবার (২৩ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় এ গোলাগুলি ঘটনা ঘটে।

সিক্রেট সার্ভিস তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের বাইরে যখন এমন গুলির ঘটনা ঘটে, তখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেতরেই ছিলেন।

তবে এসময় গোলাগুলির মধ্যে পড়ে এক পথচারী আহত হয়েছেন। তার অবস্থা কেমন, তা এখনও জানা যায়নি। তার পরিচয়ও জানা যায়নি। তবে সিএনএন বলছে, ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা গুরুতর। যদিও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তিনি সন্দেহভাজনের প্রথম গুলিতে আহত হয়েছিলেন, নাকি পরবর্তী গোলাগুলির সময়, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার পর ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে জানান, প্রেসিডেন্ট অক্ষত আছেন। নিরাপদে আছেন।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউজসংলগ্ন সেভেনটিন্থ স্ট্রিট ও পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি ব্যাগ থেকে একটি অস্ত্র বের করে গুলি চালাতে শুরু করেন। এসময় সিক্রেট সার্ভিসের পুলিশ কর্মকর্তারা পালটা গুলি ছোড়েন। বন্দুকধারী গুলিবিদ্ধ হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

মার্কিন রাষ্ট্রপতির সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় সংস্থা সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিরাপত্তাচৌকিতে অস্ত্র বের করার আগে সেটি একটি ব্যাগে লুকিয়ে রেখেছিল।

সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, এ ঘটনায় তাদের কোনো কর্মকর্তা আহত হননি।

নিহত বন্দুকধারীর নাম-পরিচয় এখনও প্রকাশ করেনি সিক্রেট সার্ভিস। বলা হয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এর বাইরে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে, তা প্রকাশ করা হবে।

এ ঘটনার জেরে হোয়াইট হাউজে সাময়িকভাবে ‘লকডাউন’ জারি করা হয়। সেখানে কাউকে ঢুকতে এবং সেখান থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি। যদিও পরে ‘লকডাউন’ তুলে নেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউজের আশপাশের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি পুলিশ।

এ ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা সচিব মার্কওয়েন মুলিন বলেছেন, তিনি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং শীঘ্রই একটি বিবৃতি দেবেন। মুলিন এক্স-এ বলেন, ‘আজ রাতের গুলি চালানোর ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমাদের আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা প্রতিদিন কী ধরনের বিপদের সম্মুখীন হন।’

এর আগে গত ২৬ এপ্রিল ওয়াশিংটনের একটি অভিজাত হোটেলে হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের নৈশভোজের সময় গুলির ঘটনা ঘটে। ওই আয়োজনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ বর্তমান প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। ওই ঘটনায় ট্রাম্প দম্পতিকে দ্রুত হোটেলটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

এরপর আবার ৪ মে হোয়াইট হাউজের কাছে সশস্ত্র একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তাদের গোলাগুলি হয়। সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তাদের গুলিতে তিনি আহত ও আটক হন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর