Thursday 29 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ইসরায়েলে নির্বাচন / ৯০% ভোট গণনা শেষ হলেও কাটেনি অনিশ্চয়তা, কেউ পাচ্ছে না সংখ্যাগরিষ্ঠতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৩৩ | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৩১

তেল আবিবে ‘ইয়াশার’ পার্টির সদর দফতরে গাদি আইজেনকোটের সমর্থকরা প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। রয়টার্স

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা যাচ্ছে, কোনো প্রধান রাজনৈতিক জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন অর্জন করতে পারেনি। ভোটের ফলাফরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এগিয়ে থাকলেও, পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় তার পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার বিষয়টি এখন প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকে নিয়ে জোট গঠনের ওপর নির্ভর করছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি বুধবার (২৮ অক্টোবর) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ৯টা পর্যন্ত ৫০ লাখেরও বেশি ভোট গণনা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ১২০ সদস্যবিশিষ্ট নেসেটে (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) ৫৩টি আসন পাওয়ার পথে রয়েছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল ‘রা’আম’ এবং ‘জয়েন্ট লিস্ট’ রেকর্ড পরিমাণ ভোট পেয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, তারা নেসেটে রেকর্ড ১৯টি আসন জিততে পারে, যা তাদের বর্তমান সম্মিলিত ১০টি আসনের প্রায় দ্বিগুণ।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যার মধ্যেই পাওয়া যেতে পারে, তবে এতে কোনো স্পষ্ট বিজয়ী উঠে আসার সম্ভাবনা কম।

৫ লাখেরও বেশি বিশেষ ‘ডাবল-এনভেলপ’ (দ্বৈত খামযুক্ত) ব্যালট এখনো গণনা করা বাকি, যা আসন বণ্টনের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সেনা সদস্য, কূটনীতিক এবং যারা তাদের নিবন্ধিত ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোট দিয়েছেন, তাদের দেওয়া ব্যালটগুলো।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলা এবং গাজায় গণহত্যার পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে মূলত নেতানিয়াহুর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের ওপর একটি গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও, ৭৭ বছর বয়সী নেতানিয়াহু এখনই পরাজয়ের মুখে পড়েছেন-এমনটি মনে হচ্ছে না।

নেতানিয়াহুর সাবেক উপদেষ্টা আভিভ বুশিনস্কি রয়টার্সকে বলেন, ‘হয়তো বিষয়টি বলা বা দেখা কঠিন, তবে তিনিই বিজয়ী।’ তিনি প্রধানমন্ত্রীর এই প্রত্যাবর্তনকে রাজনৈতিক ‘পুনরুত্থান’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

বুশিনস্কির মতে, একটি অদ্ভুত বিষয় হলো-যে নির্বাচনে নেতানিয়াহু পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছিলেন, সেই নির্বাচনই হয়তো তার রাজনৈতিক প্রাধান্যকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলা এবং সেই হামলার মাধ্যমে তার শাসনামলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার যে ব্যর্থতাগুলো সামনে এসেছিল-তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও, নেতানিয়াহু ইসরায়েলি ইহুদিদের একটি বড় অংশের অপ্রত্যাশিত ও স্পষ্ট সমর্থন পেয়েছেন এবং সবচেয়ে বড় জোটের নেতৃত্বে উঠে এসেছেন।

ভোটের আগে আইজেনকোট আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে মিলে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। নেতানিয়াহুও এমন সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

যেহেতু নেতানিয়াহুর জোটটি বৃহত্তম হতে চলেছে, তাই বিশ্লেষকদের ধারণা, তিনি একটি ঐক্য সরকার গঠন করবেন-যার অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন আইজেনকোট। তবে, এমনটি ঘটবে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের পর, আগামী সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ নতুন প্রশাসন গঠনের বিষয়ে বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন।

প্রেসিডেন্ট হারজোগ সব দলকে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন, যার ফলে সরকার গঠন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে ইসরায়েলে জোট সরকার গঠনই রীতি; দেশটির ইতিহাসে কোনো দলই কখনো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর