ঢাকা: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর আদাবরে পোশাক শ্রমিক রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেফতার ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা ও চাকরিচ্যুত সাবেক মেজর মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে ফের ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ৪ দিনের রিমান্ড শেষে মাঞ্জিল হায়দারকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. টিপু সুলতান তাকে পুনরায় ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পলাতক সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক সিদ্দিকির ঘনিষ্ঠ হিসেবে মাঞ্জিল হায়দার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া সরকার পতনের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, সরকারবিরোধী অপপ্রচার এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, মামলার পলাতক আসামিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের শনাক্ত ও পলাতকদের গ্রেফতারে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল ও জামিন আবেদন করলেও রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় আদাবরের রিং রোড এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করেন রুবেলসহ কয়েকশ ছাত্র-জনতা। এ সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের গুলিতে রুবেল আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর গত বছরের ২২ আগস্ট রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম আদাবর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল রাজধানীর মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে মাঞ্জিল হায়দারকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর কয়েক দফা রিমান্ড শেষে তিনি কারাগারে রয়েছেন।