ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘দারুণ অগ্রগতি’ হওয়ায় কথা বলে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সৌদি আরব ও কুয়েত তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করেন বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম।
বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি ব্যবহার কিংবা সৌদি আরবের আকাশসীমা দিয়ে মার্কিন বিমান ওড়ার অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সৌদি আরব।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেও ওই বিষয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি।
এনবিসি নিউজকে সৌদি আরবের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘সমস্যা হলো, সবকিছু খুব দ্রুত ঘটছে।’ তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সৌদি আরব সমর্থন করছে।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, আঞ্চলিক মিত্রদের আগে থেকেই এ অভিযান সম্পর্কে জানানো হয়েছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের একজন কূটনীতিক জানান, ট্রাম্পের প্রকাশ্য ঘোষণার পর শুধু ওমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
এই কূটনীতিক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আগে ঘোষণা দিয়েছে, পরে আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেছে। তবে এতে আমরা ক্ষুব্ধ নই।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আকস্মিক ঘোষণা সৌদি আরবের নেতৃত্বকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে। এর পরপরই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দেয় যে, তারা এ পরিকল্পনায় সমর্থন দেবে না।
ইতিমধ্যে, মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, সৌদি আরবের পাশাপাশি কুয়েতও তাদের দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও আকাশসীমা ওই অভিযানে ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করে দেয়।
ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত করার একদিন পরই ইরানও এ ইস্যুতে তাদের প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেছে। ইরান জানিয়েছে, তাদের জলসীমার কাছে থাকা জাহাজগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা নিতে পারবে।