ঢাকা: সুপ্রিম কোর্টের জন্য তিন মাসের মধ্যে পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে দেওয়া হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ।
মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে সকালে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা আপিলের শুনানি শুরু হয়।
গত ২১ মে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। পরবর্তীতে ৭ এপ্রিল ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর এ রায় দেন।
হাইকোর্টের রায়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সেই অংশ বাতিল ঘোষণা করা হয়, যেখানে অধস্তন আদালতের বিচারিক দায়িত্ব পালনকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, পদোন্নতি, কর্মস্থল নির্ধারণ, ছুটি মঞ্জুর এবং শৃঙ্খলাজনিত বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কর্তৃত্বের কথা বলা হয়েছে। রায়ের ফলে এসব ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত হওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে অধস্তন আদালতের জন্য প্রণীত ২০১৭ সালের জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাও বাতিল ঘোষণা করা হয়।
মামলায় রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের শৃঙ্খলা বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন। পাশাপাশি বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনাও চান তারা। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেন।
সংবিধানের বর্তমান ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার বিভাগে কর্মরত ব্যক্তি এবং বিচারিক দায়িত্ব পালনকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। তবে এ ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করার বিধান রয়েছে।
রিটকারীদের দাবি ছিল, বাস্তবে এ ক্ষমতা প্রয়োগে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব থেকে যায়, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরিপন্থী। তাদের মতে, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এসব ক্ষমতা সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের অধীনে থাকা উচিত।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাজনিত ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ছিল। ১৯৭৪ সালে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে তা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়। পরে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির এ ক্ষমতা প্রয়োগে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শের বিধান যুক্ত করা হয়। সর্বশেষ ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান ১১৬ অনুচ্ছেদের বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।