ঢাকা: রাজধানীর সূত্রাপুরে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়ার জেরে আগুনে দগ্ধ পাঁচজনের মধ্যে তানিয়া আক্তার (২০) নামে এক কলেজছাত্রী মারা গেছেন। এর আগে মারা যান সিদ্দিক ব্যাপারী (৬০) ও তাঁর ছেলে মো. ইমন (২৬)। এ নিয়ে ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হলো।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মারা যান তানিয়া। তার শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ।
তিনি বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তানিয়া আক্তার মারা যান। বর্তমানে রাজিব ১৫ শতাংশ এবং আরিফুর রহমান ধলু ৮ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
এর আগে গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সূত্রাপুরের শ্যামবাজারের চামাকটুলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ পাঁচজন হলেন—সিদ্দিক ব্যাপারী (৬০), তাঁর ছেলে মো. ইমন (২৬), ভাতিজা রাজিব (৩৮), ভাগিনা আরিফুর রহমান ধলু (৩৫) এবং ভাগ্নি তানিয়া আক্তার (২০)।
দগ্ধ আরিফুর রহমান ধলুর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার জানান, শ্যামবাজারের চামাকটুলিতে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি। দগ্ধ সবাই পাশাপাশি বসবাস করেন। ইমন সৌদি আরবপ্রবাসী। রাজিব ন্যাশনাল হাসপাতালে মেকানিকের কাজ করেন, ধলু ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং তানিয়া পুরান ঢাকার উইমেন্স কলেজে অনার্স পড়তেন।
সোনিয়া আক্তার আরও জানান, ঘটনার আগের দিন ইমনের বোন সুলতানা বাসার সামনে ময়লা পানি জমিয়ে রাখেন। বিষয়টি দেখে তানিয়া পানি পরিষ্কার করতে বলেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে সুলতানা সৌদি আরবপ্রবাসী ভাই ইমনকে বিষয়টি জানান। পরে ইমন দেশে চলে আসেন।
তিনি বলেন, ঘটনার দিন বিকেলে ইমন সবাইকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমিও মর, তোদেরকেও মারবো।’ এরপর নিজের শরীরে পেট্রোল ঢালেন এবং অন্যদের শরীরেও পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে পাঁচজনই দগ্ধ হন। পরে তাদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।