ঢাকা: রাজধানীর সূত্রাপুরে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়ার জেরে ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দগ্ধ ৫ জনের মধ্যে সিদ্দিক ব্যাপারী (৬০) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে তার ছেলে ইমন (২৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ নিয়ে ঘটনায় এখন পর্যন্ত দু’জনের মৃত্যু হলো।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সিদ্দিক ব্যাপারী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ।
তিনি জানান, সিদ্দিক ব্যাপারীর শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। বর্তমানে রাজিব ১৫ শতাংশ, আরিফ ৮ শতাংশ এবং তানিয়া ৬০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এর আগে গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সূত্রাপুরের শ্যামবাজারের চামাকটুলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন- সিদ্দিক ব্যাপারী (৬০), তার ছেলে মো. ইমন (২৬), ভাতিজা রাজিব (৩৮), ভাগিনা আরিফুর রহমান ধলু (৩৫) এবং ভাগ্নি তানিয়া আক্তার (২০)।
দগ্ধ আরিফুর রহমান ধলুর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার জানান, শ্যামবাজারের চামাকটুলি এলাকায় তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। দগ্ধ সবাই পাশাপাশি বসবাস করেন। ইমন সৌদি আরবপ্রবাসী। রাজিব ন্যাশনাল হাসপাতালে মেকানিকের কাজ করেন। ধলু ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং তানিয়া পুরান ঢাকার উইমেন্স কলেজে অনার্সে পড়ছেন।
সোনিয়া জানান, ঘটনার আগের দিন ইমনের বোন সুলতানা বাসার সামনে ময়লা পানি জমিয়ে রাখেন। বিষয়টি দেখে তানিয়া পানি পরিষ্কার করতে বলেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে সুলতানা সৌদি আরবপ্রবাসী ভাই ইমনকে বিষয়টি জানান।
পরে ইমন দেশে ফিরে আসেন। ঘটনার দিন বিকেলে ইমন সবাইকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমিও মরব, তোদেরও মারব।’ এরপর তিনি নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে এবং অন্যদের শরীরেও পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন সোনিয়া।
এতে ইমনসহ ৫ জন দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।