ঢাকা: র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ আসামির বিরুদ্ধে নির্ধারিত সাক্ষ্যগ্রহণ আবারও পিছিয়ে গেছে। আসামিপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগামী ২২ জুন পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করেছেন।
রোববার (১৪ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নিয়ে আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন রহমান বলেন, মামলার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আসামির পক্ষে দীর্ঘদিন আইনি লড়াই করা আইনজীবী আমিনুল গণি টিটোর মৃত্যু হওয়ায় নতুন আইনজীবী নিয়োগের জন্য সময় প্রয়োজন। পাশাপাশি অসুস্থতার কারণে আরেক আইনজীবী তবারক হোসেনের পক্ষ থেকেও সময়ের আবেদন জানানো হয়।
অন্যদিকে প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী জানান, এদিন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন এবং তার জবানবন্দি গ্রহণ করা সম্ভব ছিল। তিনি বলেন, প্রয়োজনে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষ পরবর্তী সময়ে জেরা অব্যাহত রাখতে পারত। তবে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ট্রাইব্যুনাল ২২ জুন নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এদিন মামলার পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের কথা থাকলেও তা আর হয়নি। এর আগে গত ৩ জুনও একই সাক্ষ্যগ্রহণ নির্ধারিত থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছিল। ফলে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পিছিয়ে গেল।
মামলাটিতে এখন পর্যন্ত ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানসহ চারজন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়।
বর্তমানে ১৭ আসামির মধ্যে ১০ জন গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে রয়েছেন। বাকি সাতজন, যার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ এবং র্যাবের কয়েকজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পলাতক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।