Tuesday 02 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রামিসা হত্যা মামলা: ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২ জুন ২০২৬ ১৪:২৪ | আপডেট: ২ জুন ২০২৬ ১৪:২৬

শিশু রামিসা।

ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

পরবর্তীতে ভিকটিমের মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, একই ভবনের বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন এবং কনস্টেবল রোমা আক্তার আদালতে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ তাদের জেরা করেন।

বিজ্ঞাপন

আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানান, বাকি সাক্ষীরাও আদালতে উপস্থিত রয়েছেন। সময়ের সুযোগ থাকলে মঙ্গলবারই অবশিষ্ট সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হতে পারে। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত আদালত মুলতবি ঘোষণা করা হয়।

এর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের আদালতের এজলাসে হাজির করা হয়।

সোমবার (১ জুন) ট্রাইব্যুনাল সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই দিনে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।

এর আগে গত ২৪ মে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণের পর মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করেছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অভিযুক্ত স্বপ্না আক্তার তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যান। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার পরিবার আসামিদের কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পায়। কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতরে তার বিচ্ছিন্ন মাথা পাওয়া যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনার পরদিন ২০ মে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর