ঢাকা: যশোরের চৌগাছায় গ্রেফতারের পর কথিত বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলি করার অভিযোগে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হতে যাচ্ছে আজ।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমানসহ আট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ মঙ্গলবার (১৬ জুন) অনুষ্ঠিত হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে মামলাটির কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
কার্যক্রমের শুরুতে প্রসিকিউশন তাদের ওপেনিং স্টেটমেন্ট উপস্থাপন করবে। এরপর প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরু হবে। এর আগে গত ১ জুন শুনানির দিন নির্ধারিত থাকলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পর তা পিছিয়ে আজকের দিন ধার্য করা হয়।
মামলার গ্রেফতার তিন আসামি হলেন চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান এবং কনস্টেবল জহরুল হক। তাদের কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। অপরদিকে তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান, ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল পলাতক রয়েছেন।
গত ২০ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। সে সময় গ্রেফতার আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনকে একটি মিথ্যা মামলায় আটক করা হয়। পরে আদালতে সোপর্দ না করে টানা দুই রাত নির্যাতনের পর কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা সাজিয়ে তাদের পায়ে গুলি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাদের ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে মিথ্যা অস্ত্র মামলায় চালান দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেই অস্ত্র মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। ক্ষতস্থানে বালু প্রবেশের কারণে সংক্রমণ ও পচন দেখা দিলে শেষ পর্যন্ত দুই ভুক্তভোগীরই পা কেটে ফেলতে হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।