ঢাকা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে বিভিন্ন ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগে করা দুর্নীতির মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলার অপর আসামি হলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংক পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার।
এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট গঠন করা হয়। ট্রাস্টের দলিলে শেখ হাসিনাকে আজীবন সভাপতি এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে শেখ রেহানাকে সভাপতির দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও দেশের ৪১টি তফসিলি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টের নামে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়।
অনুসন্ধানে আরও বলা হয়, তৎকালীন বিএবি সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার নির্বাহী কমিটির সভার নির্ধারিত আলোচ্যসূচিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও ‘বিবিধ’ আলোচনায় তা উপস্থাপন করেন। পরে বিভিন্ন নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টের অনুকূলে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে চিঠি পাঠানো হয় এবং ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টের নামে অর্থ সংগ্রহ করা হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক অসদাচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টের নামে অর্থ সংগ্রহ করেন। এর মাধ্যমে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে এবং রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কে কথিত অপরাধ সংঘটনের সময়কাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন এখনো দাখিল হয়নি। আগামী ৩১ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর মামলার পরবর্তী বিচারিক অগ্রগতি সম্পর্কে জানা যাবে।