ঢাকা: আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন কার্যক্রম শেষ হয়েছে। সব মিলিয়ে পাঁচ দিনের আপিল শেষে প্রায় সাড়ে ছয়শটি আপিল হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সামনে স্থাপিত অস্থয়ী বুথে এসব আপিল জমা নেওয়া হয়। রাতে নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, শেষ দিনে সকাল থেকেই মনোনয়নপ্রার্থীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় নির্ধারিত থাকলেও তার আগেই যারা নির্বাচন ভবনে উপস্থিত হয়েছেন, তাদের সবাইকে আপিল করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আপিল গ্রহণ কার্যক্রম চলে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনে অংশ নিতে স্বতন্ত্র ও দলীয় প্রার্থী হতে আড়াই হাজারেরও বেশি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই করে ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। তাতে এখন পর্যন্ত বৈধ প্রার্থী রয়েছেন ১ হাজার ৮৪২ জন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন শুরু হয়েছে সোমবার (৫ জানুয়ারি) থেকে। প্রথম দিন ৪২টি, দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার ১২২টি, তৃতীয় দিন বুধবার ১৩১টি, বৃহস্পতিবার চতুর্থ দিনে ১৭৪টি এবং শেষদিনে অন্তত ১৭১টি আপিল জমা পড়েছে।

শেষদিনে অন্তত ১৭১টি আপিল জমা পড়েছে। ছবি: সারাবাংলা
এ নিয়ে পাঁচ দিনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন হয়েছে। এরমেধ্যে প্রার্থিতা ফিরে পেতে আবেদনই বেশ, ডজন খানেক আবেদন রয়েছে বৈধ প্রার্থীর মনোনয়নত্র বাতিলের দাবিতে।
এদিকে শনিবার (১০ জানুয়ারি) থেকে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শুরু করবে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন, চার নির্বাচন কমিশনার এসব আপিল আবেদন শুনে নিষ্পত্তি করবেন। এ সময় ইসি সচিব আখতার আহমেদ ও আইন শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
ইসির আইন শাখার কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান জানান, আপিল শুনানি নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে, প্রথম দিন অন্তত ৭০টি আপিল আবেদনের শুনানির কথা রয়েছে। ১৮ জানুয়ারি পযন্ত আপিল শুনানি চলবে।
তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল শুনানি করে নিষ্পত্তি করবে এসব আবেদন।
এরপর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। সেদিনই এবার ভোটে কতজন লড়াইয়ে থাকছে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ হবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি।
নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোট হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।