ঢাকা: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) বলেছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, জালিয়াতি, অনিয়ম-দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করা হবে। তদন্তে বিষয়টির প্রমাণ মিললে পরীক্ষা বাতিল।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে ডিজি আবু নূর মো. শামসুজ্জামান সারাবাংলাকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘চাকরিপ্রার্থীরা আমাদের কাছে পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। আমরা তাদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে বিষয়টি তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরীক্ষা বাতিল করা হবে। এর আগেও দু’টি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু অনিয়ম না পাওয়া গেলে আমরা ফল প্রকাশ করব।’
নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অপচেষ্টা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নফাঁসের অপচেষ্টা যে হয়েছে, তা অস্বীকার করা যাবে না। তবে পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিবি, এসবি এবং জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে যেসব প্রশ্ন উদ্ধার করা হয়েছিল, সেগুলোর সঙ্গে আমাদের প্রশ্নের কোনো মিল ছিল না। এতে প্রতীয়মান হয় যে, প্রশ্নফাঁস হয়নি। তারপরও আমরা তদন্ত করব।’
ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতি প্রসঙ্গে আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেন, ‘ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষায় নকলের চেষ্টা হয়েছে। এটা কিন্তু প্রশ্নফাঁস না। এ ধরনের নকলের দায়ে ২০৭ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অনেক জায়গায় মামলা হয়েছে, অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজাও দেওয়া হয়েছে। এত বড় নিয়োগ পরীক্ষায় এমন কিছু ঘটনা প্রতারকচক্র ঘটাবে, এটা অস্বাভাবিক নয়।’
এর আগে রোববার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের প্রধান ফটকে পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেন একদল চাকরিপ্রার্থী। এ সময় তারা নানান স্লোগানে অনিয়ম, জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁস হয়েছে জানিয়ে পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানান। এক পর্যায়ে তার ৫ দফা দাবিতে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন।