রাজবাড়ী: সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, বাংলাদেশের সাহিত্য, সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে একটা নব দিগন্তের সূচনা হবে। আমাদের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে আমরা গোটা বাংলাদেশের সংস্কৃতি অঙ্গনকে অনেক বেশি বেগবান করে তোলার জন্য কাজ করছি।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বর্ষবরণ পর্ষদের (৪২টি সংগঠন) আয়োজনে শহরের আজাদী ময়দানে বর্ষবরণ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এ কথা বলেন।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, শুধু বাঙালি জাতি না আমাদের পাহাড়ে যারা বসবাস করে তারও এই দিবস পালন করে। মূলত কৃষকদের অথনৈতিক দিবস হিসেবে এটা পালন করা হতো। পরবর্তীতে এটি আনন্দ উৎসবে পরিণত হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক জগতে যে ক্ষতি হয়েছে সেটা ঠিক করতে গোটা বাংলাদেশে সাংস্কৃতি নবযাত্রা শুরু করতে আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের অনেক বেশি উন্নত সংস্কৃতিক ধারা, সুস্থ সংস্কৃতিক ধারা আমাদের গড়ে তুলতে হবে। একটা অসুস্থ সংস্কৃতির ধারা চলছে গোটা বাংলাদেশ ধরে। এখান থেকে আমাদের অবশ্যই বের করে নিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, বাঙালির এই ঐতিহ্য, সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে সুস্থ ও সাবলীল ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আমরা আগামী বছর ইনশাআল্লাহ অন্যরকম একটা পহেলা বৈশাখ পালন করব। প্রতি বছরই রাজবাড়ীতে সংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যহত থাকবে, আমরা সেই চেষ্টা করব।
এর আগে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নববর্ষের ঐক্যতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’— এই স্লোগানকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩।
সকাল সাড়ে ৮ টায় নববর্ষ উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহিদ খুশি রেলওয়ে মাঠে গিয়ে শেষ হয়। পরে বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ খুশি রেলওয়ে মাঠে ৩ দিনব্যাপী লোকজ মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভিন।
শোভাযাত্রায় জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, সিভিল সার্জন ডা. এম এম মাসুদ, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মো. আশিক উন নবী তালুকদার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. হুমায়ুন কবীরসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিরা, বিভিন্ন সংগঠন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতশত শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
এ ছাড়াও শহরের রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে বর্ষবরণ উদযাপন পর্ষদ ও বকুল তলা মেজবাহ উল করিম রিন্টু স্মৃতি পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান পালন করা হয়।