Tuesday 14 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কৃষক কার্ডে বদলে যাবে দেশের কৃষি অর্থনীতি: অর্থ উপদেষ্টা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৪ এপ্রিল ২০২৬ ২১:১৯ | আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৫৫

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় দেবগ্রাম ইউনিয়নের তেনাপচা এলাকায় ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ী: প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতে এক নতুন অগ্রযাত্রার সূচনা হয়েছে। এই উদ্যোগ কৃষকদের মর্যাদা, অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসছে। আমাদের ইশতেহারে যতগুলো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের তেনাপচা এলাকার কৃষকদের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বনির্ভর করতে সরকার যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই কৃষক কার্ড। এই কার্ড শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়, বরং কৃষকের জন্য একটি সমন্বিত সেবা প্ল্যাটফর্ম। দেশের অর্থনীতি ও কৃষি খাতে বিভিন্ন সময়ে গৃহীত উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার কৃষকদের কল্যাণে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কৃষিঋণ মওকুফ, সেচ ও সার সুবিধা বৃদ্ধি, বহুমুখী ফসল উৎপাদন এবং কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচি এ খাতকে এগিয়ে নিচ্ছে। প্রান্তিক কৃষকদের জন্য এই কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি দুই হাজার ৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, যা মৌসুমি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’

তিনি বলেন, ‘কৃষক, মৎস্যজীবী ও খামারিদের জন্য নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে। পাশাপাশি সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষায় ২৫ কোটি ফলজ, বনজ ও ভেষজ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং খাল খনন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।’ নারীর অগ্রগতিকে উন্নয়নের প্রধান সূচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্র এগিয়ে যাচ্ছে।’

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো সরকার এ পর্যন্ত ভোটের চিহ্ন মুছে যাওয়ার আগে এতগুলো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেনি। এতগুলো জনকল্যাণমুখী কোনো সরকার এ পর্যন্ত করেনি। আমরা সংহতি ও সহমর্মিতার আলোকে সকল ধর্মের মানুষকে শ্রদ্ধা জানিয়েছি। তার কারণে আমরা ইমাম, মুয়াজ্জিম, পুরোহিত, বুদ্ধ সবাইকে সম্মান জানিয়েছি। তাদেরকে ভাতা দেইনি, সম্মানি দিয়েছি।’

জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি বলেন, ‘প্রি-পাইলটিং প্রোগামের মধ্যে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের তেনাপচা এলাকার এক হাজার ৩৬ জন কৃষকের তালিকা করা হয়েছে। কৃষকরা যে নানা ধরনের প্রতারণার শিকার হন, বৈষম্যের শিকার হন এটা আর হবে না। আমি মনে করি, কৃষকদের ক্ষেত্রে এটা একটা বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কৃষকদের শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনা এবং তাদের অনুকূল পরিবেশে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করতেই এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে।’

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের বক্তব্য দেন- রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ,জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল আলম, সাবেক আহ্বায়ক নঈম আনসারী, গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দিন শেখ, সাবেক সভাপতি সুলতান-নূর ইসলাম মুন্নু প্রমুখ।

উল্লেখ্য, রাজবাড়ীর মোট এক হাজর ৩৬ জন কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। উদ্বোধনী দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ জনের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে দেওয়া সম্পন্ন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর