ঢাকা: বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও প্রাণের দাবি বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ প্রকল্পের কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত বিশাল এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলায় এটিই ছিল তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর।
জনসভায় তারেক রহমান স্থানীয় উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘শুধু রেলপথই নয়, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়াকে একটি আধুনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’
বগুড়ার স্থানীয় কৃষিপণ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দর নিয়ে বড় পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বগুড়ার কৃষিপণ্য এখন দেশজুড়ে সমাদৃত। এই পণ্যগুলো সরাসরি বিদেশে রফতানির সুযোগ তৈরি করতে বগুড়া বিমানবন্দরকে কার্গো বিমান ওঠানামার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।’
এদিন তিনি বগুড়াকে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং নবঘোষিত এই সিটি করপোরেশনকে একটি পরিকল্পিত, সবুজ ও নান্দনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সকল বরাদ্দ ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
দেশের সাধারণ ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে এরই মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া ইমাম-মোয়াজ্জিনদের জন্য বিশেষ সম্মানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যা প্রান্তিক পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
অর্থনীতি ও তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান নিয়ে তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘দেশের তরুণ সমাজের জন্য স্বল্প খরচে বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছে।’ খুব শিগগিরই এ বিষয়ে দেশবাসী সুখবর পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কৃষি বিপ্লব ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশব্যাপী পুনরায় ‘খাল খনন কর্মসূচি’ শুরু করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করার মহাপরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মাধ্যমে কৃষকের ফসল রক্ষা পাবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির অভাব দূর হবে।
রাজনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গঠিত সংস্কার কমিশনে জনগণের পক্ষ থেকে স্বচ্ছ প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হয়েছে।’ গণতন্ত্রে মতভেদ থাকলেও সরকারের মূল লক্ষ্য যে জনকল্যাণ, সেটি তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে সড়কপথে বগুড়ায় পৌঁছান। দিনভর ব্যস্ত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি জেলা জজ আদালতের নবনির্মিত ভবন ও ডিজিটাল ‘ই-বেইলবন্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরপর গাবতলীর বাগবাড়ীতে পৈতৃক ভিটা পরিদর্শন এবং শহিদ জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের সূচনা করেন।
সফরের শেষ পর্যায়ে সন্ধ্যায় বগুড়া প্রেসক্লাবের নতুন ভবন উদ্বোধন শেষে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো বগুড়া শহর উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।