Sunday 03 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মনিরার প্রার্থিতা বৈধ হলে জোটের ভোটে ভাগ্য নির্ধারণ!

নাজনীন লাকী সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৩ মে ২০২৬ ২২:৫০ | আপডেট: ৩ মে ২০২৬ ২৩:০৬

সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপির প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুম ও মনিরা শারমিন। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

‎ঢাকা: শপথ নিলেন ‎ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত ৪৯ জন সংসদ সদস্য। কিন্তু, মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার পরেও আজ শপথ নিতে পারেননি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম। একই আসনে তারই দলের আরেক নেত্রী মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা নিয়ে আইনি লড়াই চলমান থাকায় তৈরি হয়েছে নতুন এক সমীকরণ। এনসিপি থেকে দু’জন প্রার্থীর মনোনয়ন যদি শেষ পর্যন্ত বৈধ হয়, তবে কমিশন কীভাবে এই জটিলতা নিরসন করবে, তা নিয়ে খোদ ইসিতেও চলছে নানা বিশ্লেষণ। তবে মনিরার প্রার্থিতা বৈধ হলে শেষ পর্যন্ত ভোটে গড়াতে পারে দু’জনের ভাগ্য।

বিজ্ঞাপন

আদালতের রায়ে ঝুলে আছে গেজেট

সাধারণত নারী আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও এই আসনটি ব্যতিক্রমী মোড় নিয়েছে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার পরও কমিশন এখনো গেজেট প্রকাশ করেনি। এর নেপথ্যে রয়েছে তারই সতীর্থ মনিরা শারমিনের করা উচ্চ আদালতের রিট।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি এখন বিচারাধীন এবং আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘মনিরা শারমিনের রিটের বিষয়টি আমরা নজরে রেখেছি। ফলে আগামীকাল গেজেট প্রকাশ হবে সেটি বলা যায় না। এটি পুরোপুরি আদালতের ওপর নির্ভর করছে।’

ইসি বলেন, ‘আদালত যদি রুল জারি করে, তখন আমাদের নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ, পদ মাত্র একটি। এখন নুসরাতকে দিয়ে দিলাম। আদালত বললেন, মনিরাকে রাখেন। ফলে অনেক কিছু চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

নুসরাত তাবাসসুমকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের পর আদালত থেকে মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হলে কী হবে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নুসরাতের গেজেট বাতিল হয়ে যাবে। বাতিল হয়ে যাবে মানে দু’জন প্রার্থী হবে। তখন সেটা ভোটে চলে যাবে। জামায়াত জোটের ৭৭ জন ভোট দিয়ে তাবাসসুম ও মনিরার মাঝ থেকে একজনকে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত করবে।’

এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন খান সারাবাংলাকে বলেন, ‘জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী, যদি নির্ধারিত ৫০টি আসনের থেকে বেশি প্রার্থী থাকে সেক্ষেত্রে তা ভোটে গড়াবে। একটি পদের জন্য এরই মধ্যে আদালতের নির্দেশের পর তার মনোনয়ন গ্রহণের পর যাচাই-বাছাই করে এনসিপির তাবাসসুমকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে। এখন যদি আদালত থেকে এনসিপির আরেক নেত্রী মনিরা শারমিনের নতুন কোনো নির্দেশনা আসে সে অনুযায়ী কাজ করবে কমিশন।’ এ ছাড়া আদালতের বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি তিনি।

দ্বিমুখী লড়াই ও ভোটের সম্ভাবনা

যদি উচ্চ আদালত মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন, তবে দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যাবে। সেক্ষেত্রে এটি আর ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার’ নির্বাচন থাকবে না। নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, একই আসনে বৈধ প্রার্থী দু’জন হলে আইন অনুযায়ী ভোটের আয়োজন করতে হবে। তখন জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ৭৭ জন সংসদ সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এই গোপন ব্যালটের লড়াইয়েই নির্ধারিত হবে নুসরাত তাবাসসুম, নাকি মনিরা শারমিন, কে যাচ্ছেন ত্রয়োদশ সংসদে। মূলত জোটের সমর্থন কার পাল্লায় ভারী, সেটিই হবে তখন মূল বিষয়।

যেভাবে শুরু আইনি জটিলতা

ঘটনার সূত্রপাত হয় সরকারি চাকরি থেকে অবসরের সময়সীমা নিয়ে। বিধি অনুযায়ী অবসরের তিন বছর পার না হওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। এই শূন্যতা পূরণে শেষ মুহূর্তে নুসরাত তাবাসসুমের নাম প্রস্তাব করা হলেও সময়ের পরে জমা দেওয়ার অজুহাতে শুরুতে তা গ্রহণ করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে নুসরাত আদালতের নির্দেশে নিজের প্রার্থিতা বৈধ করে আনেন। অন্যদিকে মনিরা শারমিনও তার প্রার্থিতা ফিরে পেতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন খানের মতে, আদালতের রায় যেদিকে যাবে, কমিশন সেই পথেই হাঁটবে।

অন্যান্য আসনের বর্তমান চিত্র

উল্লেখ্য, গত ৩০ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন ৪৯ জন সংসদ সদস্যের নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। আনুপাতিক বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি জোট থেকে ৩৬ জন, জামায়াত জোট থেকে ১২ জন এবং স্বতন্ত্র থেকে একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এরই মধ্যে শপথ নিয়েছেন।‎

শেষ পর্যন্ত নুসরাত ও মনিরার মধ্যকার এই অমীমাংসিত লড়াই শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০টি আসন পূর্ণ হচ্ছে না। আপাতত সবার নজর এখন উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত আদেশের দিকে। শেষ হাসি কে হাসছেন- মনিরা, নাকি তাবাসসুম?- এখন সেই অপেক্ষা।

বিজ্ঞাপন

আরো

নাজনীন লাকী - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর