Tuesday 28 Apr 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

কোস্ট গার্ডের সদস্য সংখ্যা ১০ হাজারে উন্নীত হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৫৯ | আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৫৯

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

ঢাকা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের উপকূলীয় ও নদীমাতৃক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জনবল বর্তমান ৫ হাজার থেকে ১০ হাজারে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেইসঙ্গে বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে হেলিকপ্টারসহ মেরিটাইম সারভেইলেন্স সিস্টেম ও রেসকিউ ড্রোন ক্রয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও কোস্ট গার্ড দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের বিশাল জলসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় কোস্টগার্ডের ভূমিকা অপরিসীম। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন সরকার প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে যে ‘কোস্টগার্ড আইন’ প্রণীত হয়েছিল, তার মাধ্যমেই এই বাহিনীর যাত্রা শুরু।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের দুর্গম হাওর অঞ্চল এবং সুন্দরবনসহ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলেও কোস্টগার্ডের কার্যক্রম বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে যেখানে দুর্গমতার কারণে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পৌঁছানো কঠিন, সেখানে কোস্টগার্ডকে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় উপকূলীয় এলাকার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নৌপথে মাদকদ্রব্য পরিবহন, অস্ত্র ও মানব পাচার, অবৈধ চোরাচালান, জলদস্যুতা, অবৈধ মৎস্য আহরণ রোধসহ পরিবেশ বিরোধী অন্যান্য অপরাধ কার্যক্রম প্রতিহত করার দুঃসাহসিক কাজ কোস্ট গার্ড সম্পাদন করছে। তাদের পরিচালিত টহল কার্যক্রমের ফলে নিয়মিত সমুদ্র ও নদীপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি দুর্ঘটনায় পতিত বা বিপদগ্রস্ত নৌযান, নাবিক ও যাত্রীদের উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ও ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সুন্দরবন দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়, জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণে, পর্যটন শিল্পে ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি সুন্দরবনে ডাকাতের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে যার অন্যতম শিকার আমাদের নিরীহ মৎস্যজীবী ও মধু সংগ্রহকারীগণ। গভীর বন, হাজারো নালা ও যোগাযোগবিহীন দুর্গম সুন্দরবনের নিরাপত্তা কোস্ট গার্ডের উপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। কোস্ট গার্ড এ সকল ডাকাতদের নির্মূলকরণে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করছে।

তিনি জানান, গত এক বছরের কিছু বেশি সময়ে কোস্ট গার্ড সুন্দরবন এলাকায় মোট ২৯টি অভিযান পরিচালনা করে ৩৫ জন কুখ্যাত ডাকাত গ্রেফতার, ৪৭টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি ডাকাতদের কাছ থেকে ৩০ জন জিম্মিকে উদ্ধার করেছে। একই সময়ে প্রায় ১৪৬ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার কাঠ অবৈধ পাচারকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করেছে। এসব সাফল্য কোস্ট গার্ড সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সার্বিক উন্নয়নে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোস্ট গার্ডের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সম্প্রতি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনসহ ৩টি সার্ভেইলেন্স ড্রোন এ বাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা জাইকার অর্থায়নে একটি মাল্টিরোল রেসপন্স ভেসেল ও ২টি অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল নির্মাণের কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি অতি সম্প্রতি খুলনা শিপইয়ার্ডের মাধ্যমে বুলেটপ্রুফ সুবিধাসম্পন্ন হাই-স্পিড বোট ক্রয়ের চুক্তি সই হয়েছে, যা এ বাহিনীর বহরে সংযুক্ত হলে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলের নিরাপত্তা আরো বৃদ্ধি পাবে। কোস্ট গার্ডের জাহাজ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় আধুনিক ডকইয়ার্ডের নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কোস্ট গার্ড বহরের অতি পুরাতন ৯টি জাহাজের প্রতিস্থাপক হিসেবে দেশীয় শিপইয়ার্ডে নতুন ৯টি প্যাট্রোল ভেসেল নির্মাণের প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি কোস্ট গার্ডের জন্য আগামীতে হেলিকপ্টারসহ মেরিটাইম সারভেইলেন্স সিস্টেম ও রেসকিউ ড্রোন ক্রয়ের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। আধুনিক জাহাজ ও অত্যাধুনিক সিস্টেমসমূহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বহরে সংযোজিত হলে এ বাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে আমার বিশ্বাস। তাছাড়া কোস্ট গার্ড সদস্যদের বাসস্থান সংকট দূরীকরণে মিরপুর জোয়ারসাহারা এলাকার বাউনিয়া এবং পূর্বাচলে জমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, কোস্ট গার্ড প্রতিষ্ঠাতা বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী চিন্তা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দক্ষ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কোস্ট গার্ডকে একটি আধুনিক ও যুগোপয়োগী বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর। আমাদের মূলমন্ত্র হলো: ‘‘সততা, নিষ্ঠা এবং সাহসিকতার মাধ্যমে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’কে বিশ্বের সামনে আত্মমর্যাদা সম্পন্ন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।’’ তাই দেশের সামুদ্রিক সম্পদ ও উপকূলীয় জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সততা ও দেশপ্রেমের সহিত দায়িত্ব পালন করে যাবে এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক সরকারকে সহায়তা দেওয়া যাবে এবং এর মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনে আরো অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

সারাবাংলা/এমএইচ/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর