ঢাকা: বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধনে যুক্ত হওয়া ‘জেন্ডার’, ‘জেন্ডার পরিচয়’ ও ‘জেন্ডার অভিব্যক্তি’সহ কয়েকটি বিতর্কিত পরিভাষা বাতিল বা সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন দেশের ৩৩০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি।
মঙ্গলবার (১২ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই দাবি জানান।
বিশিষ্টজনদের মতে, এসব শব্দের সুস্পষ্ট আইনি সংজ্ঞা না থাকায় ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে বিভ্রান্তি ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়সহ নানা বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে।
মূল্যবোধ আন্দোলনের মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মাদ সাদাতের সই করা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শ্রম আইন হওয়া উচিত শ্রমিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায্যতা নিশ্চিতের একটি বাস্তবভিত্তিক দলিল। সেখানে অস্পষ্ট ও বিতর্কিত মতাদর্শিক পরিভাষা সংযোজন সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া ‘জেন্ডার অভিব্যক্তি’ ও ‘জেন্ডারভিত্তিক অন্যান্য আচরণ’ শব্দগুলোর কোনো স্পষ্ট আইনি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে এসব শব্দের ভিন্ন ব্যাখ্যা ও অপপ্রয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সইকারীরা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের অস্পষ্টতা ভবিষ্যতে নারীদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একইসঙ্গে দেশের ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক মূল্যবোধ ও হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ারও জোর আহ্বান জানানো হয়।
সইকারী বিশিষ্ট নাগরিকরা শ্রম আইনে ব্যবহৃত ‘লিঙ্গ’ ও ‘জেন্ডার’ শব্দের সুস্পষ্ট আইনগত সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং অসংজ্ঞায়িত পরিভাষাগুলো দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে সইকারীদের মধ্যে রয়েছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মাদ আবদুল মালেক, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ, মূল্যবোধ আন্দোলনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন, সাংবাদিক আলী হাসান তৈয়বসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও পেশাজীবীরা।