Saturday 19 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

প্রস্তাবিত বাজেট শ্রমিকদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ: জাতীয় শ্রমিক শক্তি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৯ জুন ২০২৬ ২২:৪৪

জাতীয় শ্রমিক শক্তি আয়োজিত সেমনিার।

ঢাকা: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট শ্রমজীবী মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় শ্রমিক শক্তির নেতারা। পাশাপাশি এ বাজেটকে ‘জনস্বার্থবিরোধী’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন তারা।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় শ্রমিক শক্তি আয়োজিত ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শ্রমিকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।

সেমিনারে বিলসের নির্বাহী পরিচালক ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বাজেট গত অর্থবছরের তুলনায় কমানো হয়েছে। এটি দেশের বিপুল শ্রমশক্তির উন্নয়ন ও কল্যাণের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।’

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আখতার চৌধুরী বলেন, ‘বাজেটে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন, শ্রমিক কল্যাণ, সামাজিক নিরাপত্তা ও বিদেশগামী শ্রমিকদের ব্যয় হ্রাসে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই।’

এনসিপি নেতা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, ‘শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি পেলেও বাজেটে তাদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেই।’

রিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ‘অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষেরা হলেও বাজেট প্রণয়নের সময় তাদের সঙ্গে কোনো অর্থবহ সংলাপ করা হয়নি।’

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বাজেটকে হাওয়াই মিঠাইয়ের সঙ্গে তুলনা করে অর্থমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের বাজেট প্রণয়নের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেমিনারে শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, শিক্ষা, পেনশন ও বেকারত্বকালীন সহায়তার মতো মৌলিক বিষয়গুলো উপেক্ষিত থাকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বক্তারা অবিলম্বে শ্রমিকবান্ধব বাজেট প্রণয়নের দাবি জানান।

জাতীয় শ্রমিক শক্তি সেমিনার থেকে বেশ কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরে। তারা শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য জাতীয় তহবিল গঠন এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও শ্রমিকদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্পের দাবি জানানো হয়। তারা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ, ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং শ্রমিক সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের কথা বলেন।

সমাপনী বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম ফকির বলেন, ‘জাতীয় বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি রাষ্ট্রের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের প্রতিফলন। বর্তমান বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিফলন নেই। তাই জাতীয় শ্রমিক শক্তি এই বাজেটকে শ্রমিকবান্ধব নয় এবং গণবিরোধী হিসেবে প্রত্যাখ্যান করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের উৎপাদন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল শক্তি শ্রমজীবী মানুষ। তাদের স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত না করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

এ ছাড়া শ্রমিক-কৃষক-জনগণের অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নের আহ্বানও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

ভোগরা বাইপাসে ১১ দলের পথসভা
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৪০

খুলনায় যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:২১

কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে ভিভো বাংলাদেশ
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:১৫

আরো

সম্পর্কিত খবর