ঢাকা: দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে লাগাতার ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একইসঙ্গে আগামী ৫ দিনের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার ৬টি জেলার নদীর পানি সতর্কসীমা অতিক্রম করে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছে সরকারি এই সংস্থাটি।
শনিবার (২৭ জুন) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রকাশিত বিশেষ বৃষ্টিপাত, নদ-নদীর পরিস্থিতি ও দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুশিয়ারা নদী এরইমধ্যেই সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া তিস্তা নদী নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে, সুরমা নদী সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে, কুশিয়ারা নদী মৌলভীবাজারের শেরপুর-সিলেট অঞ্চলে এবং সোমেশ্বরী নদী নেত্রকোণার কলমাকান্দা পয়েন্টে সতর্কসীমায় অবস্থান করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগজুড়ে তীব্র ভারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশেও ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৫ দিন রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় অংশে এই ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিরস্তর আরও বৃদ্ধি পেয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িক তথা স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদ-নদীর পানি আগামী ৫দিন পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে পারে। এর প্রভাবে আগামী ৩০ জুন থেকে ২ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলায় নদীর পানি নির্দিষ্ট সতর্কসীমা স্পর্শ করার জোরাল আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী নিচু অঞ্চলগুলো প্লাবিত হতে পারে।
এছাড়া রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও আগামী ৩ দিনে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একইসঙ্গে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের খোয়াই, সোমেশ্বরী, মনু, ধলাই, সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীগুলোর পানিও আগামী ৩দিন লাগাতার বাড়বে। এই সময়ে নেত্রকোণার সোমেশ্বরী নদী তীব্র সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন কিছু নিচু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে, গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদীগুলোর পানি আগামী পাঁচ দিন বৃদ্ধি পেলেও তা বিপদসীমার নিচেই অবস্থান করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।