Saturday 27 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘মালয়েশিয়া-চীন সফরে বাংলাদেশের কূটনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৭ জুন ২০২৬ ১৮:২৩ | আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ১৯:১২

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া-চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতায় নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, এই সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়া, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সামার ডাভোস সম্মেলন এবং চীন সফরের ফলাফল তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সফরের সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় সংসদ সর্বসম্মতিক্রমে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ও বিরোধী—উভয় দলের সমর্থনে গৃহীত ওই প্রস্তাবে সফরকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তিনি বলেন, সংসদে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে এই অর্জন কোনো ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের এবং দেশের মানুষের অর্জন। তিনি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও এবং চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে পারস্পরিক আস্থা ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তিনি জানান, মালয়েশিয়া সফরে দুই দেশের মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক এবং সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ বিষয়ে দুটি নোট বিনিময় হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক পুনরায় চালুর বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া ২০২৭ সালের মধ্যে একটি পারস্পরিক লাভজনক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া যৌথ বিজনেস কাউন্সিল গঠন, ব্যবসায়ী পর্যায়ে নিয়মিত সংলাপ এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, শ্রমবাজারে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরু, দক্ষ কর্মী পাঠানো এবং ৮ হাজার অপেক্ষমাণ কর্মীর কাজে যোগদানের বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মীদের কল্যাণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নিয়োগ ব্যয় কমানোর বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, টেকসই সমাধান এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সমন্বিতভাবে কাজ করবে। এছাড়া আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়া পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সামার দাভোস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ বক্তব্য দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি একমাত্র সরকারপ্রধান হিসেবে ওই অধিবেশনে বক্তব্য দেন।

চীন সফরের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’ থেকে উন্নীত করে ‘চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি উইথ শেয়ার্ড ফিউচার’-এ উন্নীত করা হয়েছে, যা চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাঠামো।

তিনি বলেন, সফরে উন্নয়ন সহযোগিতা, কৃষি, শিক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আটটি সমঝোতা স্মারক, ৩টি চুক্তি, একটি প্রোটোকল এবং একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা সই হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মংলা বন্দর আধুনিকায়ন, চট্টগ্রাম চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বন্যা প্রতিরোধ, নদী ড্রেজিং, আঞ্চলিক সংযোগ এবং কুনমিং থেকে বাংলাদেশের বন্দর পর্যন্ত মাল্টিমোডাল পরিবহন সংযোগ সম্প্রসারণেও সহযোগিতা জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ব্রিকস, এসসিও ও আরসিইপিতে বাংলাদেশের সদস্যপদ অর্জনের প্রচেষ্টায়ও চীন সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সফরের সামগ্রিক অর্জন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, বিডার চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন হারুন ও পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর