ঢাকা: দেশের কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় শিশুশ্রম নিরসনে বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তিনি বলেছেন, দেশে শিশু সুরক্ষায় যথেষ্ট উপযুক্ত আইন থাকা সত্ত্বেও কেবল সঠিকভাবে বাস্তবায়নের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য আইনের প্রশাসনিক প্রয়োগ নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন ও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে চাইল্ড লেবার ইলিমিনেশন প্ল্যাটফর্মের (ক্লেপ) সহযোগিতায় উন্নয়ন সংস্থা ‘অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট’ (এএসডি) আয়োজিত ‘শিশুশ্রম নিরসনে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই জরুরি বার্তা দেন।
এএসডির নির্বাহী পরিচালক এম এ করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নীতি-সংলাপে দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিনিধি, সিভিল সোসাইটির সদস্য ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থেকে শিশুশ্রম নির্মূলে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, রাজনৈতিক নেতা বা মন্ত্রীদের পাশাপাশি সরকারের নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। জনগণের করের টাকায় যারা বেতন পান, তাদের কর্মকাণ্ডের যথাযথ তদারকি থাকতে হবে। একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাহী বিভাগের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা ও কার্যকর তদারকি প্রয়োজন।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পথশিশুদের দাওয়াত দিয়ে খাইয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন যে পথশিশুরাও একটি সুন্দর জীবনের দাবিদার। পর্যায়ক্রমে তাদের রাস্তা থেকে ঘরে ফেরানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। আমরা বাংলাদেশে একজন মানবিক প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগকে যেন রাজনীতিকরণ করা না হয়, সে আহ্বানও জানান তিনি।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলি। তিনি ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে গৃহকর্মে নিয়োগ না করার জন্য সবাইকে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, শিশুদের স্বার্থে প্রয়োজন হলে মহান সংসদে বিদ্যমান আইন সংশোধন কিংবা নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল এবং সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইনসহ বিভিন্ন মানবাধিকার কর্মীরা বক্তব্য দেন।