Sunday 01 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সৌদি আরব যাবেন প্রধানমন্ত্রী

অপূর্ব কুমার
১ নভেম্বর ২০২৬ ১০:৩১ | আপডেট: ১ নভেম্বর ২০২৬ ১০:৪০

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটিতে সফর করছেন। চলতি বছর দুই তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ের পর সরকার প্রধান হিসেবে প্রথম সৌদি আরব সফরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যদিও প্রধানমন্ত্রীর সৌদি সফরের সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কাজ করছে। সম্প্রতি সৌদি প্রবাসী দুই বাংলাদেশি নাগরিকের শিরশ্ছেদের ঘটনায় দেশটির কাছে একাধিকবার ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠানো হলেও চলতি সফরে এটির কোনো প্রভাব পড়বে না।

কূটনীতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। হুতি আক্রমণে একপ্রকার বিব্রত অবস্থায় পড়েছে সৌদি আরব। বাংলাদেশ শুরু থেকেই কঠোরভাবে এই হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে। শুধু তাই নয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ন কবির এমনও বলেছেন, ইসলামের পবিত্র ভূমিকে নিরাপত্তা দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বানে সাড়া দিতে প্রস্তুত। প্রয়োজনে মক্কা অ্যাক্টে সদস্য দেশগুলো চাইলে বাংলাদেশ যোগ দিতে ইতিবাচক মনোভাব দেখাবে। মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে বাংলাদেশের এই মনোভাব প্রধানমন্ত্রীর চলতি সফরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কারণ নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের বাইরেও সৌদি আরব নতুন করে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে বেশ কিছুদিন ধরেই।

বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের জন্য সৌদি আরব জনশক্তি রফতানির বড় বাজার ছাড়াও বর্তমানের বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলাও একটি কৌশলের অংশ। রোহিঙ্গা প্রশ্নে সৌদি আরবের সমর্থন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বিনিয়োগ চুক্তি এবং আঞ্চলিক–আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হতে পারে।

বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ঐতিহ্যগত জনশক্তি রফতানির বাইরে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব।

গত আগস্টে সৌদির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এল-খেরেজি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মৎস্য, খাদ্য, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া সম্প্রতি বলেন, ‘দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের জন্য আগামী পাঁচ বছর একটি রূপান্তরমূলক পর্যায় হতে পারে।’ বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গতিশীল বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

জানা গেছে, বর্তমানে ২৮ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক সৌদি আরবে কর্মরত, যা দেশটিকে বাংলাদেশের বৃহত্তম শ্রমবাজারে পরিণত করেছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পিত সৌদি সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, জ্বালানি আমদানি, বিনিয়োগ চুক্তি এবং আঞ্চলিক–আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হতে পারে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রশ্নে সৌদি আরবের সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সৌদি আরব সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং কৌশলগত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা প্রাধান্য পাবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, চলতি সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।

বাংলাদেশে সৌদি আরবের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে দক্ষ জনশক্তি পাঠানো এবং অভিবাসন খাত নিয়ে আলোচনা ও নতুন চুক্তি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, “সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ বা আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও জোটের সদস্য পাকিস্তান ও তুরস্ক জানিয়ে দিয়েছে আপাতত নতুন সদস্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত নেই। তবে বাংলাদেশের এই নিয়ে আগ্রহ আছে।”

বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, সারের আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সৌদি আরবে যৌথ বিনিয়োগে বড় একটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। প্রস্তাবিত কারখানাটিতে বছরে ১০ লাখ টন ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সাল থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হতে পারে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও সৌদি আরব সমান অংশীদারত্বে একটি যৌথ কোম্পানি গঠন করবে। এতে দুই দেশের সরকারের মালিকানা থাকবে ৫০ শতাংশ করে। কারখানায় উৎপাদিত সব সার ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে কেনার নিশ্চয়তা দেবে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস ও অন্যান্য কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করবে সৌদি আরব।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রকল্পের মোট বিনিয়োগের ৩০ শতাংশ অর্থ দুই দেশের সরকার সমানভাবে বহন করবে। বাকি ৭০ শতাংশ অর্থ সৌদি আরবের আর্থিক খাত থেকে ঋণ হিসেবে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে কারখানা নির্মাণে মোট কত টাকা ব্যয় হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কারিগরি ও আর্থিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর প্রকল্পের ব্যয়, ঋণের শর্ত এবং বাণিজ্যিক বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে।

প্রস্তাবিত কারখানায় বাংলাদেশের পক্ষে অংশীদারত্বের দায়িত্বে থাকবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দেশের আটটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা পরিচালনা করে। যৌথ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদেও দুই দেশের সমান প্রতিনিধিত্ব রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চলছে। তবে এটি হবে প্রাথমিক ও বাধ্যবাধকতাহীন সমঝোতা। অর্থাৎ, সমঝোতা স্মারক সই হলেই কোনো দেশ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আইনগতভাবে বাধ্য থাকবে না।

শিল্পসচিব আবদুন নাসের খান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পরিকল্পনাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিসিআইসি কাজ করছে।

সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর প্রকল্পটির কারিগরি ও বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। দুই দেশ সম্মত হলে পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ, অর্থায়ন, কাঁচামাল সরবরাহ এবং সার কেনার বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি করা হবে।

সারাবাংলা/একে/এমএম
বিজ্ঞাপন

আরো

অপূর্ব কুমার - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর