Thursday 08 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কোনো শক্তিই বাংলাদেশকে বিরাজনীতিকরণ করতে পারবে না: মঈন খান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪৪ | আপডেট: ৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৩৪

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান।

ঢাকা: কোনো শক্তি বা পরাশক্তিই বাংলাদেশকে বিরাজনীতিকরণ করতে পারবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের রক্তে রাজনীতি ও গণতন্ত্র মিশে আছে। এ দেশের মানুষ কখনোই রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না। তাই দেশি-বিদেশি কোনো শক্তির পক্ষেই বাংলাদেশকে বিরাজনীতিকরণ করা সম্ভব নয়।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

ড. মঈন খান বলেন, ২০০৮ সালে দেশে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেটি ছিল একটি সাজানো নির্বাচন। দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন শক্তির সমন্বয়ে ওই নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছিল। সে সময় একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে বিরাজনীতিকরণের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি। কারণ, বাংলাদেশের জনগণ রাজনীতি সচেতন এবং গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার অধিকারী একজন নেতা। প্রতিটি নির্বাচনে সবকটি আসনে জয়ী হয়ে তিনি জনগণের ভালোবাসার প্রমাণ দিয়েছেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ধারক ও বাহক হিসেবে তিনি ছিলেন অনন্য। তার জনপ্রিয়তাই প্রমাণ করে, জনগণ সবসময় গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকারের পক্ষে ছিল।

ড. মঈন খান বলেন, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়াকে শুধু নির্যাতন-নিপীড়নের শিকারই করা হয়নি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলায়ও তাকে জড়িয়ে রাখা হয়েছিল। তবুও তিনি ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে সবকিছু সহ্য করেছেন। তিনি নিয়মতান্ত্রিক পথেই সত্য প্রমাণ করতে চেয়েছেন। এক সময় তিনি নিজেই বলেছিলেন, এসব মিথ্যা মামলা নিয়ে কোনো প্রতিশোধ নয়, আইনের মাধ্যমেই প্রমাণ করবেন যে তিনি নির্দোষ। শেষ পর্যন্ত জনগণও সেই সত্য প্রত্যক্ষ করেছে।

তিনি বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্ট গণতন্ত্রের পক্ষে একটি ঐতিহাসিক বিজয় এসেছে। যারা বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে, যারা গণতন্ত্রের নামে দেশে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করেছিল এবং যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বলে দাবি করেও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের বিরোধিতা করেছে, তাদের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। আজ প্রমাণিত হয়েছে—খালেদা জিয়াই ছিলেন সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক।

ড. মঈন খান আরও বলেন, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং পরবর্তীতে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচিত হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে তিনি উন্নয়নকে রাজধানী থেকে গ্রাম-গঞ্জে পৌঁছে দিয়েছিলেন। গ্রামীণ উন্নয়নের মূল কারিগর ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নই ছিল তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, উন্নত ও বিশ্বে সম্মানজনক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও জাগপার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে এবং জোটের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এস এম শাহাদাতের সঞ্চালনায় শোকসভায় আরও বক্তব্য দেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড ডা. সৈয়দ নুরুল ইসলাম, এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান এম এন শাওন সাদেকী ও মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বারিক, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস, এনডিপির চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হারুন সোহেল, গণদলের মহাসচিব সৈয়দ আবু সাঈদসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের উদ্যোগে আয়োজিত শোকসভা শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর