ঢাকা: শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা নিজেদের নীলনকশা বাস্তবায়নের কাঁটা মনে করেই নির্মমভাবে হত্যা করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন একাধারে গণতান্ত্রিক, দেশপ্রেমিক ও আপসহীন রাষ্ট্রনায়ক। যেকোনো আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন নির্ভীক যোদ্ধা। স্বাধীন ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে তিনি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক জোট সার্ক প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশের মর্যাদা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুদৃঢ় করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, শহিদ জিয়ার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশবাসীর মধ্যে দেশবিরোধী চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে এক ইস্পাতকঠিন গণঐক্য গড়ে ওঠে, যা আজও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দলের সহ-দফতর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন গণমাধ্যমে বাণীটি পাঠান।
বাণীতে বিএনপি মহাসচিব শহিদ জিয়াকে একজন স্বপ্নদ্রষ্টা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি ছিলেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনের প্রবক্তা। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি।
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য জিয়াউর রহমান বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন।
স্বাধীনতাত্তোর সংকটময় সময়ে শহিদ জিয়ার ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক সৈনিক-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, কৃষি বিপ্লব, গণশিক্ষা কার্যক্রম, খাল খনন, গ্রাম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পল্লী চিকিৎসক নিয়োগের মাধ্যমে শহিদ জিয়া দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখেন।
বাণীর শেষাংশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শহিদ জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটাধিকার ও মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।