Sunday 18 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

প্রাথমিক শিক্ষায় খালেদা জিয়ার উদ্যোগ অনুসরণ করেছে নাইজেরিয়া: জাইমা রহমান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫১ | আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৫৩

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

ঢাকা: বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেওয়া পদক্ষেপ নাইজেরিয়ায় অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার নাতনি ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তিনি বলেন, বিশেষ করে মেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারে বেগম জিয়ার উদ্যোগ আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর আগে বাস্তবায়ন করা হয়, যার সুফল আজও দেশটির গ্রামাঞ্চলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ঢাকা ফোরাম আয়োজিত ‘জাতি গঠনে নারী: নীতি, সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন জাইমা রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

ব্যারিস্টার জাইমা রহমান তার বক্তব্যে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, গত বছরের শুরুতে বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানকালে একটি হাসপাতালে পশ্চিম নাইজেরিয়ার এক নার্স তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। ওই নার্স বেগম খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং জানান, নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেগুলো নাইজেরিয়ার সরকার বহু বছর আগে অনুসরণ করে বাস্তবায়ন করেছিল। এর ফলে দেশটির গ্রামাঞ্চলে এখনও লাখ লাখ মেয়ে অন্তত প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।

জাইমা রহমান বলেন, মেয়েদের আত্মবিশ্বাসই তাদের ক্ষমতায়নের সবচেয়ে বড় ভিত্তি। লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা গেলে নারীরা খুব সহজেই দেশের অর্থনীতি ও জিডিপিতে বড় ধরনের অবদান রাখতে পারে, যার উদাহরণ উন্নত বিশ্বে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তিনি আরও বলেন, জনসংখ্যার অর্ধেক অংশকে পিছনে রেখে কোনো দেশ টেকসই উন্নয়নের পথে এগোতে পারে না।

নিজের মা ডা. জুবাইদা রহমানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একজন নারী একই সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব ও পারিবারিক দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে পারেন। ডা. জুবাইদা রহমান একজন কার্ডিওলজিস্ট হওয়ার পাশাপাশি গৃহিণী হিসেবেও সমানভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে জাইমা রহমান বলেন, তিনি একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং নারী শিক্ষা ও নারী স্বাস্থ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে দেশের অর্থনীতি ও জিডিপি বৃদ্ধিতে নারীদের যে অবদান রয়েছে, তা এখনও পর্যাপ্তভাবে দৃশ্যমান নয়।

নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে এটি তার প্রথম বক্তব্য উল্লেখ করে জাইমা রহমান বলেন, এই অভিজ্ঞতা তার জন্য নতুন ও আবেগঘন। সব প্রশ্নের উত্তর বা সব সমস্যার সমাধান তার জানা নেই—এ কথা অকপটে স্বীকার করলেও তিনি বিশ্বাস করেন, প্রত্যেকের নিজের অবস্থান থেকে সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করার আন্তরিকতা থাকা প্রয়োজন। তিনি জানান, তিনি এখানে এসেছেন মূলত শুনতে, শিখতে এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে।

আলোচনা সভায় ভিন্নমত ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকা সত্ত্বেও এক টেবিলে বসে দেশের স্বার্থে আলোচনা করাকে গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য হিসেবে উল্লেখ করেন জাইমা রহমান। মতের অমিল থাকলেও একে অন্যের কথা শোনা ও সম্মান জানানোই একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চার পরিচয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, নারীদের উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো অর্থায়নের সুযোগ সীমিত থাকা। বিশেষ করে নারী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ঋণ পেতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। ভবিষ্যতে যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবেন, তাদের এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর নারীরা নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সমাজকর্মী ও উদ্যোক্তা তামারা আবেদ বলেন, নারীদের কেবল জনসংখ্যার অংশ হিসেবে নয়, বরং মানবসম্পদ হিসেবে দেখতে হবে। নারীদের মধ্যে যে সুপ্ত সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগাতে পারলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে। তিনি দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখার মানসিকতা সবার মধ্যে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর