ঢাকা: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দোষারোপের রাজনীতিতে মানুষের পেট ভরে না। মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ানোই হলো সবচেয়ে বড় রাজনীতি।
তিনি বলেন, ‘দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে এক দল আরেক দলের সমালোচনা ও দোষারোপ করে যাচ্ছে। বহু বছর ধরে এই ধারা চলমান থাকলেও এখন সময় এসেছে পরিবর্তনের। বিএনপি সেই পরিবর্তনের সূচনা করেছে।’
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে যশোরের আলোচিত শিশু আফিয়ার পরিবারের কাছে ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। যশোর সদর উপজেলার বাজুয়াডাঙ্গা গ্রামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যশোর জেলা বিএনপি।
তারেক রহমান বলেন, ‘আফিয়ার মতো অসংখ্য অসহায় পরিবার আজও দেশে রয়েছে, যারা নানা সামাজিক অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। বিএনপি প্রচলিত রাজনীতির বাইরে গিয়ে এমন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা সবসময় করে আসছে। তবে শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে এই বিশাল সামাজিক দায়িত্ব বহন করা অত্যন্ত কঠিন। সে কারণেই বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারলে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এসব সেবা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি শুধু সহানুভূতির রাজনীতি নয়, বরং টেকসই সমাধানের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।’
কৃষকদের জন্য কৃষিকার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও প্রণোদনা পাবেন। একইসঙ্গে শহরাঞ্চল থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।’
দেশের জলাবদ্ধতা ও বন্যা সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ‘ভারী বর্ষণ কিংবা সীমান্তের ওপার থেকে পানি ছেড়ে দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়মিত প্লাবিত হয়। এ সমস্যা সমাধানে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল খনন প্রকল্প আবারও চালু করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘শহিদ জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবসময় সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে কাজ করেছেন। আমি সেই ধারাবাহিকতাই বজায় রাখতে চাই। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে পুনরায় খাল খনন প্রকল্প শুরু করা হবে।’
নারী উন্নয়নের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তার সুফল ইতোমধ্যে বাংলাদেশের নারী সমাজ পেয়েছে। এখন সেই শিক্ষিত নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে বিএনপির রয়েছে বৃহৎ ও সুপরিকল্পিত কর্মসূচি।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
প্রসঙ্গত, শিশু আফিয়ার জন্মের পর তার শরীরের ত্বক ও মাথার চুলের রঙে ভিন্নতার কারণে কুসংস্কার ও অপবাদের শিকার হন তার মা মনিরা খাতুন (২৭)। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী মোজাফ্ফর হোসেন তাকে তালাক দেন। আফিয়ার বয়স যখন মাত্র আট মাস, তখনই বিচ্ছেদ ঘটে এই দম্পতির। বিষয়টি গত বছরের নভেম্বর মাসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। সেই আলোচিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই বিএনপির উদ্যোগে আফিয়ার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে এই ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।