Monday 19 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

২০০৮-এর মতো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না: নাহিদ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৩৯ | আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৫০

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

ঢাকা: ২০০৮ সালের মতো ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা এবার আর সফল হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, পরিকল্পিত ও প্রভাবিত নির্বাচন মেনে নেওয়া হবে না। নির্বাচন কমিশন সবার আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় এবং সে ক্ষেত্রে আন্দোলনের মাঠে নামতে বাধ্য হবে ১০ দলীয় জোট।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এবং পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, “২০০৮ সালের মতো নির্বাচন করার কোনো পরিকল্পনা থাকলে স্পষ্ট করে বলতে চাই—এবার তা হতে দেওয়া হবে না। নির্বাচন হতে হবে ১৯৯১ সালের মতো অবাধ ও নিরপেক্ষ। অন্যথায় এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি প্রভাবিত হয় এবং নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা নির্বাচনের মাঠে থাকতে পারব না, আন্দোলনের মাঠে নামতে বাধ্য হবো।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনী আচরণবিধি প্রয়োগে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপির বিলবোর্ডে ছবি থাকায় নির্বাচন কমিশন শোকজ দিয়েছে। অথচ ওই বিলবোর্ড গণভোটের প্রচারণার অংশ ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র ছবি থাকার কারণ দেখিয়ে এনসিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ ছেয়ে গেলেও সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

এনসিপির আহ্বায়ক আরও অভিযোগ করেন, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় দেশব্যাপী দোয়া-মাহফিলের আয়োজনের মাধ্যমে বিএনপি নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “দোয়া-মাহফিলের নামে প্রকাশ্য রাজনৈতিক প্রচারণা হলেও নির্বাচন কমিশন সেখানে নীরব ভূমিকা পালন করছে, যা কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।”

নাহিদ ইসলাম বলেন, অনিয়ম চলতে থাকলে দল ও জোট ভিন্ন পথে যেতে বাধ্য হবে। আগের মতো পরিকল্পিত নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হলে তা প্রতিহত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণ খেলাপিদের প্রার্থিতা বৈধ রেখে আইন থেকে সরে এসেছে। বিএনপি কমিশনে গিয়ে এবং ছাত্র সংগঠনকে সামনে রেখে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে রায় প্রভাবিত করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

‘একটি দলের চাপে পড়ে কমিশন আইন থেকে সরে এসেছে। আমরা এ বিষয়ে আদালতে যাবো। আদালতের ওপরও চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, সেটিও জনগণের সামনে স্পষ্ট হওয়া দরকার,’ বলেন নাহিদ ইসলাম।

এনসিপি নেতা বলেন, আমরা চাই না কেউ আইন ভেঙে সংসদে যাক। ঋণ খেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকরা যেন সংসদ সদস্য হতে না পারে, সেটাই আমাদের দাবি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তারেক রহমানের পক্ষ থেকে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি, সংস্কারের বিরোধিতা এবং ঋণ খেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের সংসদে নেওয়ার বিষয়টি কোনো পরিকল্পনার অংশ কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেখানে ছবি ব্যবহার করে প্রচারণা চালাচ্ছে, সেখানে এনসিপির গণভোটের প্রচারণাকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। শোকজ দিয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যত গণভোটের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সারাবাংলা/এফএন/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর