Tuesday 20 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সরে গেলেন গোলাম আকবর, শেষ হাসি কাদেরের

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২০ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৩৫ | আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৫১

গোলাম আকবর ও গিয়াস কাদের চৌধুরী। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সব জল্পনাকল্পনার অবসান হয়েছে। চূড়ান্ত সংকেত না পেয়ে এ আসনে প্রাথমিকভাবে মনোনীত দুই প্রার্থীর একজন গোলাম আকবর খোন্দকার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলে নির্বাচনের মাঠে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে শেষ হাসি হাসলেন গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে গোলাম আকবর খোন্দকারের পক্ষে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এদিন চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেন ১১১ জন প্রার্থী।

বিজ্ঞাপন

দুই হেভিওয়েট নেতার অনুসারীদের অন্তর্কোন্দলের জন্য গত দেড় বছর ধরে আলোচনার শীর্ষে থাকা চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপি প্রথমে দলটির সাবেক কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে প্রার্থী ঘোষণা করে। কিন্তু এরপর আবার তাকে বাদ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না দিয়ে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয় বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকারকে। উভয় প্রার্থীই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে দাখিল করেন এবং উভয় মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

এতে শেষ পর্যন্ত বিএনপির কার ওপর ভরসা করবে, তা নিয়ে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি হয়। সবশেষে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে গোলাম আকবর খোন্দকারের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর এ কৌতুহলের অবসান হলো। এর আগে অবশ্য বিএনপির কেন্দ্র থেকে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বলা হয়।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের ‘পোড় খাওয়া’ রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত গোলাম আকবর খোন্দকার। তিনি রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। আওয়ামী লীগের আমলে ১৬ বছর আন্দোলনের মাঠে থেকে একাধিক মামলার আসামি হয়ে তিনি কয়েকবার কারাগারে যান। বিভিন্ন সময় পুলিশের হামলারও শিকার হন।

রাউজানে বিএনপির রাজনীতি দুটি বলয়ে বিভক্ত। এর মধ্যে একটি বলয়ে আছেন গোলাম আকবরের অনুসারীরা। আরেক বলয়ে আছেন গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীরা, তিনিও রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য। গিয়াস কাদের একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি হওয়া সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ভাই। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীও গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন। জেল থেকে বেরিয়ে তিনি দেশ ছেড়ে যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দেশে ফেরেন।

এর পর রাউজানে দুই নেতার অনুসারীরা মুখোমুখি হয়ে পড়েন। শুরু হয় আধিপত্যের সংঘাত। রাজনৈতিক অন্তর্দ্বন্দ্ব, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বকে কেন্দ্র করে রাউজানে গত দেড় বছরে কমপক্ষে ১৮টি খুনের ঘটনা ঘটেছে, এর মধ্যে অন্তত ১২টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড এবং নিহতরা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

যারা নির্বাচন থেকে সরে গেলেন

চট্টগ্রামের ১৬ আসনে মোট ১২ প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। তিন রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের অধীনে থাকা পাঁচটি আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-৫ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মোক্তার আহমেদ, চট্টগ্রাম-৮ আসনে খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ এনায়েতে উল্লাহ ও চট্টগ্রাম-৯ আসনের বাংলাদেশ নেজামে ইসলামী পার্টির মো. নেজাম উদ্দিন তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের অধীনে থাকার ১০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বাংলাদেশ সু্প্রিম পার্টি- বিএসপির মো. ওসমান আলী, খেলাফত মজলিসের এইচএম আশরাফ বিন ইয়াকুব তাদের নিজ নিজ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসন থেকে বিএনপির গোলাম আকবর খোন্দকার, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) খেলাফত মজলিসের আবুল কালাম, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে গণঅধিকার পরিষদের এমদাদুল হাসান, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসন থেকে খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ ইমরান, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে এলডিপির কফিল উদ্দিন চৌধুরী ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলামী পার্টির মুহাম্মদ মুসা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার অধীনে চট্টগ্রাম-১১ আসনের এবি পার্টির মোহাম্মদ লোকমান মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেছেন।

বিজ্ঞাপন

২১৫ আসনে নির্বাচন করবে জামায়াত
২০ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৩৫

পঞ্চগড়ে সড়কে প্রাণ গেল ২ নারীর
২০ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:২২

আরো

সম্পর্কিত খবর