চট্টগ্রাম ব্যুরো: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে ১১১ জন প্রার্থী চূড়ান্ত ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছেন। এর মধ্যে তিনজন বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে লড়তে হবে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের দুই প্রার্থীকে। এছাড়া, জামায়াতে ইসলামী একটি আসনে এনসিপিকে সমর্থন দিয়ে তাদের প্রার্থী নির্বাচন করবেন না বলে জানালেও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় ব্যালটে থেকে যাচ্ছেন সেই প্রার্থী।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৫টি আসনে বিএনপি এবং ১৪টি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। একটি আসনে বিএনপির একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী দু’টি আসন তাদের জোটের শরিক দলকে ছেড়ে দিয়েছে। এ ছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ১০ জন, যাদের মধ্যে বিএনপির বিদ্রোহী তিন জন।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার আংশিক) আসনে বিএনপি প্রার্থী করেছে জসিম উদ্দিন আহমেদকে। আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত এ প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন দুই বিদ্রোহী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাবেক সহ-সভাপতি মিজানুল হক চৌধুরী (ফুটবল প্রতীক) এবং দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম (মোটরসাইকেল প্রতীক)।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে বিএনপি প্রার্থী করেছে ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরীকে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লেয়াকত আলী ফুটবল প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মোট মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ১৪৩ জন। যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েন ৪২ জন। এরপর নির্বাচন কমিশনে আপিল করে ও আদালতের রায়ে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ২২ জন। আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন ১২ জন। ফলে এখন চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ১১১ জন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) উৎসবমুখর পরিবেশে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার শুরু হবে আনুষ্ঠানিক ভোটের প্রচার, চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
ভোটযুদ্ধে প্রার্থীরা
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির নুরুল আমিন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামী মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডির একেএম আবু ইউছুপ (তারা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী (হাতপাখা), ইনসানিয়াত বিপ্লবের রেজাউল করিম (আপেল), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী (হাত পাঞ্জা), জাতীয় পার্টির সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন (লাঙ্গল)।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি)-এ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছিল সরোয়ার আলমগীরকে। তার মনোনয়নপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেছিলেন একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন। শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল করেছে। এ আসনে বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী ছাড়া প্রার্থী আছে জনতার দলের মোহাম্মদ গোলাম নওশের আলী (কলম), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ জুলফিকার আলী মান্নান (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান (ট্রাক), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি- বিএসপি’র শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমেদ (একতারা), দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমদ কবির (ফুটবল) ও জিন্নাত আকতার (হরিণ)।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ উপজেলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আলাউদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশা (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলা (ফুটবল)।

চূড়ান্ত ভোটযুদ্ধে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের ১১১ প্রার্থী। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম- ৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরীর একাংশ) বিএনপির আসলাম চৌধুরী (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মো. আনোয়ার ছিদ্দিক (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি- সিপিবি’র মো. মছিউদদৌলা (কাস্তে), গণ অধিকার পরিষদের এটিএম পারভেজ (ট্রাক), গণসংহতি আন্দোলনের জাহিদুল আলম (মাথাল), নেজামে ইসলামী পার্টির মো. জাকারিয়া খালেদ (বই), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দিদারুল মাওলা (হাতপাখা), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি- বিএসপি’র শহীদুল ইসলাম চৌধুরী (একতারা), ইসলামী ফ্রন্টের সিরাজুদ্দৌলা (মোমবাতি)।
চট্টগ্রাম- ৫ (হাটহাজারী ও নগরীর একাংশ) আসনে বিএনপির মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের মতিউল্লাহ নূরী (হাতপাখা), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (চেয়ার), লেবার পার্টির মো. আলা উদ্দিন (আনারস), খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দিন (রিক্সা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদ (ফুটবল)।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী (ধানের শীষ), জামায়াতের মো. শাহাজাহান মঞ্জু (দাঁড়িপাল্লা), গণসংহতি আন্দোলনের নাছির উদ্দীন তালুকদার (মাথাল), ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী (মোমবাতি)।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর এটিএম রেজাউল করিম (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির হুমাম কাদের চৌধুরী (ধানের শীষ), সিপিবির প্রমোদ বরণ বড়ুয়া (কাস্তে), ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল্লাহ আল হারুন (হাতপাখা), ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ ইকবাল হাছান (মোমবাতি), এবি পার্টির মো. আবদুর রহমান (ঈগল), গণঅধিকার পরিষদের মো. বেলাল উদ্দিন (ট্রাক), জাতীয় পার্টির মো. মেহেদী রাসেদ (লাঙ্গল)।
চট্টগ্রাম- ৮ (বোয়ালখালী উপজেলা ও নগরীরেএকাংশ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির এরশাদ উল্রাহ, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের আবু নাছের, এনসিপির মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ (শাপলা কলি), ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ এমদাদুল হক (আপেল), ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ নুরুল আলম (হাতপাখা) ও ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান (মোমবাতি)। এ আসনে জামায়াত এনসিপিকে সমর্থন দিলেও তাদের প্রার্থী আবু নাছের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার না করায় তিনি প্রার্থী হিসেবে থেকে যাচ্ছেন।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির আবদুল মোমেন চৌধুরী (তারা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুস শুক্কুর (হাতপাখা), জামায়াতের একেএম ফজলুল হক (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ (চেয়ার), বিএনপির আবু সুফিয়ান (ধানের শীষ), ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন (আপেল), নাগরিক ঐক্যের নুরুল আবছার মজুমদার (কেটলি), বাসদ (মার্কসবাদী) মো. শফিউদ্দিন কবির (কাঁচি), জনতার দল হায়দার আলী চৌধুরী (কলম), গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ (মাথাল)।
চট্টগ্রাম- ১০ (পাহাড়তলী- ডবলমুরিং-হালিশহর) আসনে বিএনপির সাঈদ আল নোমান (ধানের শীষ), জামায়াতের শামসুজ্জামান হেলালী (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির মুহাম্মদ এমদাদ হোসাইন চৌধুরী (লাঙ্গল), বাসদ (মার্কসবাদী) আসমা আকতার (কাঁচি), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. লিয়াকত আলী (চেয়ার), ইসলামী আন্দোলনের মাহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম (হাতপাখা), ইনসানিয়াত বিপ্লবের সাবিনা খাতুন (আপেল), লেবার পার্টির ওসমান গণি (আনারস), স্বতস্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আরমান আলী (ফুটবল)।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা-সদরঘাট) আসনে বিএনপির আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (ধানের শীষ), জামায়াতের মোহাম্মদ শফিউল আলম (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আবু তাহের (লাঙ্গল), বাসদ (মার্কসবাদী) দীপা মজুমদার (কাঁচি), গণফোরামের উজ্জ্বল ভৌমিক (উদীয়মান সূর্য), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবু তাহের (চেয়ার), বাসদের মো. নিজামুল হক আল কাদেরী (মই), ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. আজিজ মিয়া (আপেল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুর উদ্দিন (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া (সূর্যমুখী ফুল)।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে বিএনপির এনামুল হক এনাম (ধানের শীষ), জামায়াতের মোহাম্মদ ফরিদুল আলম (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের এসএম বেলাল নূর (হাতপাখা), ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু (মোমবাতি), জাতীয় পার্টির ফরিদ আহম্মদ চৌধুরী (লাঙ্গল), ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ আবু তালেব হেলালী (আপেল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইন (ফুটবল)।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ার, কর্ণফুলী উপজেলা) আসনে জাতীয় পার্টির আবদুর রব চৌধুরী (লাঙ্গল), ইসলামী ফ্রন্টের এসএম শাহজাহান (মোমবাতি), জামায়াতের মাহমুদুল হাসান (দাঁড়িপাল্লা), ইনসানিয়াত বিপ্লবের মু. রেজাউল মোস্তফা (আপেল), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন- এনডিএম’র মোহাম্মদ এমরান (সিংহ), গণঅধিকার পরিষদের মো. মুজিবুর রহমান চৌং (ট্রাক) বিএনপি’র সরোয়ার জামাল নিজাম (ধানের শীষ)।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ উপজেলা ও সাতাকানিয়া আংশিক) বিএনপির জসীম উদ্দীন আহমেদ (ধানের শীষ), ইনসানিয়াত বিপ্লবের এইচএম ইলিয়াছ (আপেল), এলডিপি’র ওমর ফারুক (ছাতা), ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আবদুল হামিদ (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ বাদশা মিয়া (লাঙ্গল), ইসলামী ফ্রন্টের মো. সোলাইমান (মোমবাতি), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মিজানুল হক চৌধুরী (ফুটবল). শফিকুল ইসলাম রাহী (মোটর সাইকেল)। এ আসনে জোটভুক্ত এলডিপির প্রার্থী থাকায় জামায়াত প্রার্থী দেয়নি।
চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া উপজেলা ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমীন (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের শরীফুল আলম চৌধুরী (হাতপাখা) ও জামায়াত ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী (দাঁড়িপাল্লা)।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী (ধানের শীষ), জামায়াতের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামিক ফ্রন্টের আবদুল মালেক (চেয়ার), মুসলিম লীগের এহছানুল হক (হারিকেন), গণঅধিকার পরিষদের মো, আরিফুল হক (ট্রাক), ইসলামী আন্দোলনের হাফেজ রুহুল্লাহ (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র প্রাথী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী (ফুটবল)।