খুলনা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দলগুলো চরিত্র, সততা ও নৈতিকতার পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থ হয়েছে। একই দলগুলোকে আবার ক্ষমতায় বসালে দেশে শোষণ, দমন-পীড়ন ও দুর্নীতিরই পুনরাবৃত্তি ঘটবে। তাই ব্যর্থ শাসনের ধারাবাহিকতা ভেঙে মৌলিক পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়ানো ছাড়া জাতির সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির হল রুমে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল খুলনার উদ্যোগে খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির আইনজীবীদের সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ছয়টি আসনের প্রার্থীদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আবেগ দিয়ে নয়, বিবেক দিয়ে সিদ্ধান্ত নিন। সত্যকে সত্য বলার সাহস না থাকলে নতুন বাংলাদেশ গড়া যাবে না।’
স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির দীর্ঘ শাসনামলের কঠোর সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘কোনো দলই দাবি করতে পারে না যে, তাদের শাসনামলে দুর্নীতি হয়নি বা ভিন্নমতের ওপর দমন চালানো হয়নি। ক্ষমতায় গেলে সবাই ক্ষমতার দাম্ভিকতায় ভুগেছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করেছে এবং বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।’
সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘খুনি, ধর্ষক ও দাগি আসামিরা জামিন পেয়ে যায়, অথচ রাজনৈতিক ভিন্নমতের মানুষ মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর হয়রানির শিকার হয়- এটাই গত ৫৪ বছরের বাস্তবতা। এ অবস্থায় আবার সেই দলগুলোকেই ক্ষমতায় বসালে যে লাউ, সেই কদু ছাড়া কিছুই হবে।’
সংখ্যালঘু নির্যাতন ইস্যুতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নির্যাতনের ঘটনাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’ জামায়াতের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী বা ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে একটি প্রমাণ দেখাতে পারলে আমি প্রকাশ্যে দায় নেব। বছরের পর বছর যাদের ভোট দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে তারাই জমি দখল, বাড়ি দখল ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত।’
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনো মেজরিটি বা মাইনোরিটি নেই। ধর্ম, বর্ণ বা পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে ছোট করার অধিকার কারও নেই। এই দেশে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার অধিকার সমান। সংখ্যালঘু শব্দটি ব্যবহার করেই মানুষকে দুর্বল করা হয়।’
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের এই সাবেক এমপি বলেন, ‘ওই গণঅভ্যুত্থানের মূল দাবি ছিল ন্যায়বিচার ও পরিবর্তন। উই ওয়ান্ট জাস্টিস এই স্লোগান কোনো ফাঁকা কথা নয়। এর মানে হচ্ছে এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না।’
প্রস্তাবিত গণভোট ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নতুন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে কোনো প্রধানমন্ত্রী বা সরকার প্রধান অসীম ক্ষমতার মালিক হতে পারবে না। ক্ষমতার মেয়াদ সীমিত থাকবে, বিচার বিভাগ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হবে এবং জবাবদিহিতা বাধ্যতামূলক হবে।’ এই সংস্কার না হলে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির খুলনা-৪ আসনের (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) দেয়াল ঘড়ি প্রতিকের প্রার্থী মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক খুলনা-৬ আসনের (কয়রা-পাইকগাছা) দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, খুলনা মহানগরী আমির, খুলনা-৩ আসনের (খালিশপুর-দৌলতপুর-খানজাহান আলী) দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি ও খুলনা-২ আসনের (খুলনা সদর-সোনাডাঙ্গা) দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা-১ আসনের (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী বাবু কৃষ্ণ নন্দী।
বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি লস্কর শাহ আলমের সভাপতিত্বে ও মনিরুল ইসলাম পান্না, আওসাফুর রহমান ও আবু ইউসুফ মোল্লার পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাস্টার শফিকুল আলম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও খুলনা জেলা আমির মাওলানা ইমরান হুসাইন, জেলা নায়েবে আমির মাওলানা গোলাম সরোয়ার ও মাওলানা কবিরুল ইসলাম, মহানগরী নায়েবে আমির অধ্যাপক নজিবুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান প্রমুখ।