সিরাজগঞ্জ: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যমুনা নদীর ভাঙনে মানুষ প্রতিবছর সর্বশান্ত হয়। আমরা ক্ষমতায় গেলে যমুনা নদী খনন করব, যমুনার বাঁধকে শক্তিশালী করব। যমুনা নদী শাসনের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জের উন্নতি করব। সেইসঙ্গে দুগ্ধ উৎপাদন করে সরাসরি ঢাকায় না পাঠিয়ে সারা দেশের চাহিদা পূরণ করব। তাঁত সমৃদ্ধ সিরাজগঞ্জের দুঃখ-দুর্দশাগ্রস্ত শ্রমিকদের উন্নয়নে কাজ করা হবে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জ শহরের ইসলামিয়া কলেজ মাঠে জেলা জামায়াতের আয়োজিত বিশাল নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেলে ইনশাআল্লাহ সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করব। ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে আরও এগিয়ে নিতে চাই। জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে সকলের প্রতি ইনসাফ কায়েম করা হবে। বিচার ব্যবস্থায় ইনসাফ কায়েম হলে দেশের উন্নতি ত্বরান্বিত হবে। আমরা স্বাস্থ্য খাতের উন্নতি করতে চাই। মানসম্মত স্বাস্থ্য নীতির মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের উন্নতি করব। অনিয়ম-দুর্নীতি-চুরি, চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেব না। কেউ চাঁদাবাজি করলে তাদের শিকড় উপড়ে ফেলব। আমরা দুর্নীতি করব না, কাউকে দুর্নীতি করতেও দেব না। আপনারা দুর্নীতিবাজদেরকে বয়কট করুন। এবারের নির্বাচনে আপনারা চাঁদাবাজদেরকে বয়কট করুন।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে নারীদেরকে ঘরে-বাইরে কর্মস্থলে সুরক্ষা দেব। নারীদের উন্নয়নে কাজ করব। যারা নারীদের নিয়ে মিথ্যা মায়াকান্না করেন তারাই নারীদের ক্ষতি করে থাকেন।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই মেমোরেন্ডাম বাস্তবায়নে হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দিন। হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দিলে ওসমান হাদি হত্যার বিচার সম্ভব হবে। জুলাইয়ের শহিদদের বিচার করা যাবে। যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে থাকবে তারা ভারতীয় আধিপাত্যের দালাল হিসেবে চিহ্নিত হবে। এবারের নির্বাচনে ভারতীয় আধিপত্যবাদীদের লাল কার্ড দেখাতে হবে।”
জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহিনুর আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এবং সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া সলঙ্গা) আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ পদপ্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। এছাড়া, সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ ও রায়গঞ্জ) আসনের ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুফতি এনায়েতুল্লাহ আব্দুর রউফ ও সিরাজগঞ্জ-৫ (শাহজাদপুর) আসনের এনসিপি মনোনীত ১০ দলীয় প্রার্থী এস এম সাইফ মুস্তাফিজ সমাবেশে বক্তৃতা করেন।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এবং সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ আলী আলম, সিরাজগঞ্জ- ২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মওলানা মো. জাহিদুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, ছাত্র শিবিরের সিরাজগঞ্জ শহর শাখার সভাপতি শামীম রেজা ও জেলা শিবিরের সভাপতি আব্দুল আজিজ প্রমুখ। সমাবশে জেলার বিভিন্ন থানা ও পৌরসভা শাখা জামায়াতের আমিররাসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এরআগে, শনিবার সকাল ১০টা থেকেই সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে স্লোগান দিতে দিতে জনসভাস্থলে পৌঁছান। বিকাল ৩টা ৩৪ মিনিটের সময় প্রধান অতিথি জনসভার মঞ্চে পৌঁছান এবং বিকেল ৪টা ১২ মিনিটের সময় তিনি বক্তব্য শেষ করে সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের পথসভায় যোগদান দিতে রওয়ান হন জামায়াত আমির ডা.শফিকুর রহমান।