ঢাকা: ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, আগামী ১২ তারিখের ভোট দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোটাধিকার রক্ষায় জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে শাহবাগ থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও বিআইডব্লিউটিসি শ্রমিক দলের আয়োজিত নির্বাচনি মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র গলিতে গণসংযোগ করেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নিজ শক্তিতে বলীয়ান হয়ে উঠেছে। আমাদের জোট ও সহযোগী দল থাকলেও বিএনপির শক্তিকে ভয় পেয়ে কিছু দল আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই প্রোপাগান্ডা ও অপপ্রচারের মাধ্যমে বিএনপিকে দোষী সাব্যস্ত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি ক্ষমতার বাইরে থাকায় দলের নেতাকর্মীরা শান্তিতে থাকতে পারেননি। এ সময় প্রায় পাঁচ হাজার নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। নির্বাচন সামনে আসতেই আবার বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
দলের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দল শক্তিশালী ভিত্তি পেয়েছে এবং বর্তমানে তারেক রহমান নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নেতৃত্বে কখনো শূন্যতা তৈরি হয়নি। শহিদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার মতো তারেক রহমানও দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন—এ জন্য তিনি সবার দোয়া চান। নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য নিজেদেরকেই সোচ্চার হতে হবে।
গণসংযোগকালে তরুণদের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, শুধু চাকরির ওপর নির্ভরশীল থাকলে সমস্যার সমাধান হবে না। চাকরির বাইরে দক্ষতা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে এখন বাংলাদেশে ভালো আয় করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, তরুণদের এমনভাবে তৈরি হতে হবে যেন ভবিষ্যতে তারা নিজেরা ১০০ জনকে কর্মসংস্থান দিতে পারে। দক্ষতা, কৌশল ও নিজ নিজ ক্ষেত্রে উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বিকেলে মির্জা আব্বাস বিজয়নগর স্কাউট মার্কেটে নির্বাচনি প্রচারণার ক্যাম্প উদ্বোধন করেন এবং বিজয়নগর বড় রাস্তায় পিঠা উৎসবে অংশ নেন। রাতে তিনি পল্টন কমিউনিটি সেন্টারে বারবিডাসহ পাঁচটি ব্যবসায়িক সমিতির নেতারা সঙ্গে নির্বাচনি আলোচনা সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।