ঢাকা: ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণায় অস্বাভাবিক বিলম্ব এবং ফলাফল পালটে দেওয়ার অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলছে, বিশেষ একটি দলকে সুবিধা দিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ‘চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রে’ লিপ্ত রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৪টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ফলাফল ঘোষণা এবং কিছু আসনে ফলাফল টেম্পারিং বিষয়ে অভিযোগ দিতে নির্বাচন কমিশনে যান জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল।
এ সময় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অস্বাভাবিক বিলম্ব ও তথ্য পরিবর্তনের অভিযোগ জানান। তিনি বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ফলাফল ঘোষণায় নজিরবিহীন বিলম্ব করছেন। ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের আসনগুলোতে পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ফল পাওয়ার কথা থাকলেও তা আটকে রাখা হয়েছে।’
তিনি সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করে বলেন, “ঢাকা-১৭ আসনসহ অন্তত আটটি আসনে প্রিজাইডিং অফিসারদের সই করা প্রাথমিক শিট পরবর্তী সময়ে পরিবর্তন করা হয়েছে। ‘ভুল হয়েছে’ অজুহাত দিয়ে কর্মকর্তারা ফলাফল কাটাকাটি করেছেন। একটি বিশেষ দলের প্রধানকে সুবিধা দিতে ৫ হাজার পর্যন্ত ভোট কমিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।”
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ঢাকা-১৫ আসনের কথা উল্লেখ করে জুবায়ের বলেন, ‘৩ লাখ ভোটার ও ১১৯টি কেন্দ্রের এই আসনে বড় বড় আসনের চেয়েও ধীরগতিতে কাজ চলছে। অথচ অন্য এক প্রার্থী নিজেকে বিজয়ী দাবি করছেন। আমাদের হিসেব অনুযায়ী আমিরে জামায়াত সেখানে ২০ হাজার ভোটে এগিয়ে আছেন।’
এ সময় নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে জামায়াত নেতা বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছি, রক্ত দিয়েছি। ১৪০০ শহিদের আত্মত্যাগ নতুন কোনো ফ্যাসিবাদ কায়েমের জন্য নয়। সারা দেশের নির্বাচনি চিত্র পর্যবেক্ষণ করে আমরা ষড়যন্ত্রের সুস্পষ্ট আভাস পাচ্ছি।’
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করব না। দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে ষড়যন্ত্রকারীদের কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।’