Thursday 07 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আমলাতন্ত্রে বড় ধরনের পুনর্গঠন দরকার ছিল: হাসনাত

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৩ মে ২০২৬ ১৮:৪৩ | আপডেট: ৩ মে ২০২৬ ২০:১৩

ঢাকা: আমলাতন্ত্রে বড় ধরনের পুনর্গঠন হওয়া দরকার ছিল বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

রোববার (৩ মে) দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত জাতীয় কনভেনশনের ‘জ্বালানি নিরাপত্তা: বর্তমান সংকট এবং ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আমলাতন্ত্রে একটি বড় ধরনের পুনর্গঠন বা ‘ম্যাসিভ রিস্ট্রাকচার’ এখন সময়ের দাবি।

কনভেনশনে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে কারণ তারা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ ও কুক্ষিগত করতে চাইছে। বিচার বিভাগ ও আমলাতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন করার যে অঙ্গীকার ছিল, সরকার তা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। তার মতে, যথাযথ সংস্কার না হওয়ায় প্রশাসন এখন জনবান্ধব হওয়ার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দেশের জ্বালানি সংকটকে বর্তমান অর্থনীতির প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় শিল্প ও বাণিজ্যিক খাত বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত কিংবা সংকটকবলিত পাকিস্তানও যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে (রিনিউঅ্যাবল এনার্জি) অভাবনীয় উন্নতি করেছে, সেখানে বাংলাদেশ গত এক দশকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে জ্বালানি আহরণে চরম উদাসীনতা দেখিয়েছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে উরুগুয়ে বা কেনিয়ার মতো দেশগুলো বিপদে না পড়লে বাংলাদেশ কেন আমদানিনির্ভর জ্বালানির চাপে পিষ্ট হবে?

সেমিনারে তিনি আমলাতন্ত্রের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করে বলেন, জ্বালানি খাতের অনেক গুরুত্বপূর্ণ আমলা অবসরের পর এলএনজি কোম্পানিগুলোতে উচ্চপদে যোগ দিচ্ছেন। ফলে দায়িত্ব পালনকালে তারা দেশের স্বার্থের চেয়ে এলএনজি আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে বেশি প্ররোচিত করেন। এই স্বার্থের সংঘাতের কারণেই দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত অবহেলিত রয়ে গেছে।

হাসনাত আব্দুল্লাহ সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি খাতের এই অদূরদর্শী পরিকল্পনা বজায় থাকলে পুরো বিজনেস সিস্টেম কলাপস করতে পারে। বিশেষ করে এসএমই সেক্টর এবং স্থানীয় শিল্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। সংকট উত্তরণে অবিলম্বে জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ এবং আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে ল্যান্ড বেসড এফএসআরইউ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জোর দাবি জানান তিনি। দিনশেষে জ্বালানি স্বনির্ভরতা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব বলে মন্তব্য করেন এই রাজনীতিবিদ।

সারাবাংলা/এফএন/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর