Thursday 07 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জনস্বার্থ এবং জবাবদিহিতার সংস্কারগুলো কৌশলে বাতিল করা হচ্ছে: হান্নান মাসউদ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৩ মে ২০২৬ ১৯:৫১ | আপডেট: ৪ মে ২০২৬ ১০:২৪

ঢাকা: বর্তমান সংসদকে ‘প্রতারণা ও প্রবঞ্চনার সংসদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেছেন, সরকার জনস্বার্থ এবং জবাবদিহিতার সংস্কারগুলো কৌশলে বাতিল করে দিয়ে কেবল নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার আইনগুলোকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।

রোববার (৩ মে) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে এনসিপি আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে তিনি এসব কথা বলেন।

হান্নান মাসউদ বলেন, যে অধ্যাদেশগুলো কার্যকর করলে সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, সেগুলোকে দ্রুত আইনে পরিণত করা হয়েছে। পক্ষান্তরে, যেসব সংস্কার প্রস্তাব সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা ছিল, সেগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাতিল বা ‘ল্যাপস’ করে দেওয়া হয়েছে। এমন একটি সংসদে যোগ দিয়ে জনগণের জন্য কী পাওয়া গেল?

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘ভোট চুরি’র মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সরানোর জন্য অন্তর্বর্তী সরকার যে বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করেছিল, বর্তমান নির্বাচিত সরকার সেটিকে এমনভাবে আইনে রূপান্তর করেছে যা চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এই আইনের মাধ্যমে সরকার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই যেকোনো স্থানীয় প্রতিনিধিকে অপসারণ করতে পারবে। এর ফলে বিরোধী দলের কাউকে অপছন্দ হলেই তাকে সরিয়ে দিয়ে নিজেদের অনুগত প্রশাসক বসানোর পথ সুগম করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপির প্রস্তাব অনুযায়ীই পুলিশ কমিশন গঠিত হয়েছিল, কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর এখন তাদের কাছেই এটি অপছন্দীয় হয়ে উঠেছে। এমনকি গুম কমিশন বাতিল এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠনের দাবি থেকে সরকারের সরে আসার সমালোচনা করেন তিনি। সংবিধান সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার যদি সেখান থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে তারাও পুনরায় ‘নতুন সংবিধানের’ দাবিতে রাজপথে আন্দোলনে ফিরে যাবেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীন করার পরিবর্তে পুনরায় দলীয়করণের যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছে, তা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকারের এই ক্ষমতাভোগী মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য বৃহত্তর ঐক্য ও সংস্কার বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সারাবাংলা/এফএন/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর