।। সিনিয়র করেসপেন্ডন্ট ।।
ঢাকা: ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) ভর্তির সুযোগ পেলেও তার শিক্ষার খরচ দিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হয়েও কিন্তু আমি তার শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় খরচটা দিতে পারিনি।’
বুধবার (২৭ জুন) দশম জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশনে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ নেতা এসব কথা বলেন।
কয়েক মাস আগে সরকারি চাকরিতে কোটার সংস্কার চেয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি অভিমানের সুরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘হলে যারা থাকে, তারা তো বিভিন্ন জেলা থেকে, গ্রাম থেকেই আসে। এখন, যাদের জন্য করি, তারাই যদি না চায় তো ওটা রাখার আর দরকারটা কী? পৃথিবীর সব থেকে অল্প খরচে এসব শিক্ষার্থী লেখাপড়া শিখতে পারে। এত অল্প খরচে পৃথিবীর কেউ পড়ালেখা করতে পারে না।’
শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘দুঃখের বিষয়, আমার ছেলে এমআইটিতে চান্স পেল। আমি তার শিক্ষার খরচটা দিতে পারিনি। দুইটা সেমিস্টার পড়ার পরে নিজে কিছু করলো। আমাদের কিছু বন্ধু-বান্ধব আছে, তারা সহযোগিতা করল। যার জন্য আমার ছেলে পড়তে যেতে পারল। আর আমার আব্বার বন্ধু, আজিজ সাত্তার সাহেব ছিলেন, তিনিই কিন্তু আমার ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার সব দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তিনি বলতেন- তুমি পলিটিক্স করো, এটা (সন্তানদের পড়ালেখা) আমার দায়িত্ব। তিনি না থাকলে বোধহয় আমি আমার সন্তানদের পড়ালেখা করাতে পারতাম না।’
শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘তারপরও ওরা মিশনারি স্কুলে পড়েছে। নৈনিতলার মিশনারী স্কুলে সাত দিনের মধ্যে ছয় দিন সবজি বা ডাল-ভাত খেতে হতো। একদিন থাকত মাংস। এভাবে কৃচ্ছতা সাধন করেই কিন্তু তারা বড় হয়েছে। এবং উচ্চশিক্ষার জন্য নিজেরা কাজ করেছে।’
ওই পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমি তখন প্রধানমন্ত্রী, আমার একটা দ্বিধা হলো। আমি কাকে বলবো টাকা দিতে? বা আমি কিভাবে টাকা পাঠাবো? ঠিক আমি বুঝতে পারিনি। আমার নিজের কারণে তার পড়া হলো না। দুই সেমিস্টার পড়ে তাকে বিদায় নিতে হলো। তারপর সে চাকরিতে ঢুকল।’
এরপর তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের হাভার্ডে পড়ার ঘটনার স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি অনেক অনুরোধ করার পর সে আবেদন করলো এবং চান্স পেয়ে গেল (হার্ভার্ডে)। কিন্তু দুভার্গ্য, আমি গ্রেফতার হয়ে গেলাম। আমি শুধু বলে গিয়েছিলাম, পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়। যেভাবেই হোক, পড়ালেখা চালিয়ে যেও।’
উন্নত দেশগুলোতে পড়ালেখার খরচ অনেক বেশি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রেহানার মেয়ে অক্সফোর্ডে চান্স পেয়েছে। পড়ালেখা করলো স্টুডেন্ট লোন নিয়ে। তারপর চাকরি করে সেই লোন শোধ দিয়ে (২১ বছর বয়স থেকে চাকরি করে) তারপরে মাস্টার্স ডিগ্রি নিলো।’
বিপরীতে দেশে উচ্চশিক্ষার খরচের তুলনা টেনে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে যারা পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে থাকে, তাদের সিট ভাড়া কত? তাদের খাবার খরচ কত? তাদের পড়ালেখার ফি কত? কয় টাকা খরচ করতে হয় তাদের? বলতে গেলে একেবারে বিনা পয়সায় আমরা পড়াই। তারপরও তারা যদি রাস্তায় নামে, ভিসির বাড়ি ভাঙচুর করে, লুটপাট করে- এর থেকে লজ্জার আর কিছু নেই। সেজন্য বলেছি, কোট পদ্ধতি বাদ দিয়ে দিয়েছি। কেবিনেট সেক্রেটারিকে দিয়ে কমিটি করে দিয়েছি। এরপরে যদি মফস্বলের কেউ চাকরি না পায়, তার জন্য অত্যন্ত আমাদের দায়ী করতে পারবে না।’
সারাবাংলা/এনআর/টিআর