।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।।
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের অভিযোগও পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন এক পুলিশ ও তিন আনসার সদস্য। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) ভোরে বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা গ্রামে অভিযানে যায় পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালীর গণ্ডামারা ইউনিয়নে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান এস আলম। সেই প্রকল্পের বিরোধিতা করে দুই বছর আগে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়িয়েছিল গ্রামের লোকজন। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলার আসামিদের ধরতে বৃহস্পতিবার ভোরে পশ্চিম বড়ঘোনা গ্রামে অভিযানে যায় পুলিশ।
তবে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালহউদ্দিন চৌধুরী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র বিরোধী আন্দোলনের মামলার আসামিদের ধরতে যাবার কথা অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, পুলিশ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের নিয়মিত অভিযানে গিয়েছিল।
ওসি জানান, ভোরে অভিযান শুরুর পর গ্রামের কিছু লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয়। এরপর পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে চাইলে তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।
দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়েও পুলিশের উপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওসি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়। তবে তাদের কাছে অস্ত্রশস্ত্র পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছেন ওসি।
ওসি বলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়া এক পুলিশ ও তিনজন আনসার সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল এস আলম-এর কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ঠেকাতে আন্দোলনে নামা গ্রামবাসীর সঙ্গে পুলিশের রক্তক্ষয়ী সংঘাত হয়। এতে চারজন নিহত হয়েছিল। এই ঘটনায় চারটি মামলা দায়ের হয়েছিল।
সারাবাংলা/আরডি/এমআই