Monday 25 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘লন্ডনপ্রবাসী যুবককে ছায়া’ বিতর্কে পড়া ডিআইজি অবশেষে বদলি


২ জুলাই ২০১৮ ১৮:৫৪
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।।

চট্টগ্রাম ব্যুরো: বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লন্ডনপ্রবাসী এক যুবকের পক্ষ নিয়ে জমিজমার বিরোধে জড়িয়ে বিতর্কে পড়া পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ড. এস এম মনিরুজ্জামানকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে।

সোমবার (২ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব ধনঞ্জয় দাশ স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ড. এস এম মনিরুজ্জামানকে পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকায় ‘টিআর’ পদে বদলি করা হয়েছে। রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুককে চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই আদেশের কপি সারাবাংলার কাছে সংরক্ষিত আছে।

বিজ্ঞাপন

২০১৭ সালের ৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন মনিরুজ্জামান। আগস্টে মনিরুজ্জামানের অবসরে যাবার কথা রয়েছে।

মনিরুজ্জামানের নতুন কর্মক্ষেত্রটি আর শাখা পুলিশ বিভাগের সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হিসেবে বিবেচিত বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র।

এক বছর তিন মাসের দায়িত্ব পালনকালে ডিআইজি সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সমর কৃঞ্চ চৌধুরী নামে এক শিক্ষানবীশ আইনজীবীকে ইয়াবা ও অস্ত্র মামলায় গ্রেফতারের পর আলোচনায় আসেন। বোয়ালখালীতে আরও কয়েকজন নিরীহ নারী-পুরুষকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ আসে পুলিশের বিরুদ্ধে। আর এসব মামলার নেপথ্যের মদদদাতা হিসেবে লন্ডনপ্রবাসী যুবকের সঙ্গে সমালোচিত হন ডিআইজিও।

গত ২৭ মে চট্টগ্রাম নগরী থেকে সমর চৌধুরীকে গ্রেফতার করে বোয়ালখালী থানা পুলিশ। পরে দক্ষিণ সারোয়াতলী গ্রামে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৩৬০ পিস ইয়াবা ও একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ দাবি করে। ষাটোর্ধ্ব সমর চৌধুরীর কাছ থেকে ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। প্রতিবাদে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। মূলত তখন থেকেই ডিআইজি মনিরুজ্জামান এবং লন্ডনপ্রবাসী সঞ্জয় দাশের বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে আসে।

গ্রেফতারের পর সমর দাশের মেয়ে অলকানন্দা চৌধুরী অভিযোগ করেন- তাদের গ্রামের স্বপন দাশ ও লন্ডনপ্রবাসী সঞ্জয় দাশের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ আছে। সমর স্বপন দাশকে আইনি সহায়তা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে সঞ্জয় পুলিশকে ব্যবহার করে প্রথমে সমরকে একটি মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেন। এরপর গ্রেফতার করিয়ে অস্ত্র আইনে এবং আরও একটি ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় ফাঁসিয়ে দেন।

স্বপন দাশ জানিয়েছিলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০১৭ সালের ১ মে ডিআইজি এস এম মনিরুজ্জামানের অফিসে দুপক্ষের বৈঠক হয়। সেখানে সঞ্জয়ের জমি ফেরতের কথা বলা হলে স্বপন দাশ আদালতের মাধ্যমে আইনগতভাবে মিমাংসায় রাজি হন। কিন্তু এরপর থেকে তাদের উপর হয়রানি শুরু হয়। একের পর এক পাঁচটি মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে ইয়াবা উদ্ধারের মামলাও আছে। এসব মামলায় গ্রেফতার হয়ে তিনি তিন মাস জেল খাটেন।

এসব মামলায় স্বপন দাশের সঙ্গে তার দুই ভাই রুপন দাশ ও দীপক দাশ গোপন, তাদের বড় ভাইয়ের ছেলে উৎপল দাশ, গোপনের ছেলে রিকি দাশ, স্বপনের ছেলে তন্ময় দাশ, স্বপনের মেয়ের জামাই অভিজিৎ দাশ ও তার বাবা প্রদীপ দাশকে আসামি করা হয়।

এ ছাড়া স্বপন দাশের ঘরে আশ্রিত দিনমজুর শংকর দত্ত মদনকে গ্রেফতার করে পকেটে ৮০ পিস ইয়াবা দিয়ে মামলা দেওয়া হয়। ওই মামলায় আসামি হিসেবে আছেন স্বপন দাশ এবং সর্বশেষ গ্রেফতার হওয়া সমর চৌধুরীও। মদনের স্ত্রী মঞ্জু দত্তকে লাকড়ি চুরি ও হত্যাপ্রচেষ্টার অভিযোগে দুটি মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে জেলে নেওয়া হয়। মঞ্জুর ভাই পংকজ চৌধুরীকেও গ্রেফতার করে জেলে নেওয়া হয়।

সর্বশেষ গ্রেফতার হওয়া সমর চৌধুরী ইয়াবা মামলায় জামিন পেলেও এখনও অস্ত্র মামলায় কারাগারে আছেন। ১ জুলাই সমরের দুই মেয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের বাবার মুক্তি ও মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অন্যদিকে ডিআইজির আশ্রয়ে থাকা সঞ্জয়ের অত্যাচার থেকে বাঁচতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান স্বপন দাশ ও তাদের গ্রামের বনবিহারী বিশ্বাস ও মধুসূধন বিশ্বাস।

গত ৬ জুন সারাবাংলাডটনেটে ‘দাপুটে লন্ডনপ্রবাসীকে ছায়া দিয়ে বিতর্কে চট্টগ্রামের ডিআইজি’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশ হয়েছিল। সেই সংবাদে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে ডিআইজি বলেছিলেন, ‘লন্ডনপ্রবাসী যুবকের জমি তিনি উদ্ধার করবেনই। প্রতিবাদ হলেও তিনি কারও কাছে মাথা নত করবেন না।’ যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তারা সবাই অপরাধী বলেও মন্তব্য করেছিলেন ডিআইজি।

সারাবাংলা/আরডি/এমআই