Monday 25 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

দাফনের ১০ দিন পর ফিরে আসল তাবাচ্ছুম


৩ জুলাই ২০১৮ ১২:১৫
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

। ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট ।।

শরীয়তপুর: দাফনের ১০ দিন পর বাড়ি ফিরে এসেছে জলজ্যান্ত তাবাচ্ছুম!

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে ঘটেছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। কারণ গত ২৩ জুন পরিবারের সদস্যরা সব রীতিনীতি মেনে দাফন করেছিলেন তাদের মেয়েকে।

সোমবার (২ জুলাই) সকালে বাড়ি ফিরে এসেছে সেই মেয়ে। তবে একা নয়, সঙ্গে এনেছে সদ্য বিবাহিত স্বামীকেও। আর তাকে দেখতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান চরসেনসাস ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে।

জানা গেছে, গত ২১ জুন রাতে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় তাবাচ্ছুম। এরপর দিন ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই লাশকে নিখোঁজ তাবাচ্ছুমের লাশ ভেবে বাড়ি নিয়ে যান স্বজনরা। ২৩ জুন দাফন করা হয় লাশটি।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা জানান, ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর তারাবনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তাবচ্ছুম (১৫) একই বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র আব্দুল আজিজ মৃধার (২২) সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের সর্ম্পক ছিল। দুই পরিবার তাদের সর্ম্পক মেনে না নেওয়ায় গত ২১ জুন তাবচ্ছুম ও আব্দুল আজিজ মৃধা ঘর ছাড়ে।

তাবাচ্ছুমের মা নিলুফা বেগমের দাবি, তার নাবালিকা মেয়েকে ফুঁসলে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা ও ১০ ভরি সোনার গহনা নিয়ে পালিয়ে যায় আজিজ মৃধা। তাই আজিজের বিরুদ্ধে সখিপুর থানায় অপহরণ মামলাও করেন তারা।

এদিকে তারপর দিনই আশুলিয়ায় স্যুটকেস বন্দি অজ্ঞাত পরিচয়ের এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ফেসবুকের মাধ্যমে সেই খবর পেয়ে আশুলিয়া থানায় ছুটে যান তাবাচ্ছুমের মামা, চাচাসহ কয়েকজন স্বজন। অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশটিকে তাবাচ্ছুমের লাশ হিসেবে চিহ্নিত করেন তারা। পরে তা সখিপুরে এনে দাফন করা হয়।

তাবাচ্ছুমকে হত্যা করা হয়েছে ধরে নিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুঁসে ওঠেন এলাকার মানুষ। তারাবুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকাবাসী বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেন। ভয় পেয়ে অভিযুক্ত আব্দুল আজিজ মৃধার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপন করেন।

নিজের মৃত্যুর ঘটনা ও এর জন্য প্রেমিক আজিজকে দায়ী করার খবর জানতে পেরে ফিরে আসে তাবাচ্ছুম।

তাবাচ্ছুমের মামা গোলাম মোস্তফা বলেন, ফেসবুকে স্যুটকেটবন্দি লাশটির ছবি দেখে তাবাচ্ছুমের ফুফু লতিফা বেগম তা সনাক্ত করে। লাশটি পচে গলে যাওয়ায় কাউকেই দেখতে দেওয়া হয়নি। তার ভাগনির পালিয়ে যাওয়া ও লাম উদ্ধারের সময় মিলে যাওয়ায় তারা ভেবেছেন লাশটি তামাচ্ছুমেরই।

যাকে নিয়ে এতো হইচই সেই তাবাচ্ছুম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি নিজের ইচ্ছায় বাড়ি থেকে পালিয়ে বান্দরবান চলে যাই। এরমধ্যে আজিজের সঙ্গে বিয়েও করি আমি। পরে এসব খবর পেয়ে ফিরে আসি।’

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মাঞ্জুরুল হক আকন্দ বলেন, ’শুনেছি তাবাচ্ছুম এলাকায় এসেছে। তাহলে তার স্বজনরা কার লাশ এনে দাফন করলো এনিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

সারাবাংলা/এমএইচ/এসএমএন