ঢাকা: নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ নির্বাচন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বলেন, প্রশিক্ষকদের শুধু ভালো ট্রেনি হওয়াই নয়, বরং ‘দাদাগিরি’ করতে হবে তবে ইতিবাচক অর্থে। তিনি বলেন, দাদাগিরি মানে কাউকে মারধর বা ভয় দেখানো নয় বরং এমনভাবে বোঝানো, যাতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের নির্দেশনা ছাড়া আর কিছু ভাবতেই না পারেন।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিশেষ অতিথি, আইএফইএস কর্মকর্তাসহ সহকর্মী ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজকের এই প্রশিক্ষণটা হলো মূল প্রশিক্ষণ। এখানে আপনারা দাদা হবেন, পরবর্তী প্রজন্ম হবে বাবা, তারও পরের প্রজন্ম হবে সন্তান। কাজেই আপনাদের দায়িত্ব কতটা গুরুদায়িত্বপূর্ণ, তা সহজেই বোঝা যায়।’
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, সারাদেশে ধাপে ধাপে প্রায় ১০ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। শুরু হচ্ছে ৪০ জন দিয়ে, যা পরবর্তী পর্যায়ে কয়েক হাজারে পৌঁছাবে।
এ সময় তাহমিদা আহমেদ সতর্ক করে বলেন, ‘নির্বাচন ভালো হলে সফলতা আপনাদের কাছে যাবে, আর ব্যর্থ হলে দায়ও কিন্তু আপনাদের ঘাড়েই আসবে।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রশিক্ষণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাদেরও আইন বুঝিয়ে দিতে হবে। কেবল বললেই হবে না, আইনগত ভিত্তি দেখাতে হবে। না হলে তারা দায়িত্ব নিতে চাইবে না।’
অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আপনাদের মধ্যে অনেকের চাকরির অভিজ্ঞতা ২০ বছরেরও বেশি। তাই শেখার চেয়ে আজকের প্রশিক্ষণটা হবে ঝালাই করার। নতুন আইনের সংশোধন ও নীতিমালার ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা তৈরি করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।’
প্রশিক্ষণার্থীদের তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘আমি শুধু আশাবাদী নই, বিশ্বাস করি আপনারা পারবেন। কারণ এত বছর ধরে কাজ করার অভিজ্ঞতা আপনাদের রয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগাতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি ভালো ট্রেনি হতে পারেন, তবে ভালো ট্রেনার তৈরি করতে পারবেন। আর সেখান থেকেই তৈরি হবে দক্ষ প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার এবং রিটার্নিং অফিসার।’
নির্বাচনে কোর প্রশিক্ষকদের দাদাগিরি করতে হবে: ইসি তাহমিদা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৯ আগস্ট ২০২৫ ১৪:১১
২৯ আগস্ট ২০২৫ ১৪:১১
সারাবাংলা/এনএল/এনজে