ঢাকা: রাজধানী ঢাকার বাতাস আজ অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) সুইস প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বায়ুমান সূচকে ঢাকার অবস্থান ১১৩। যা সংবেদনশীল জনগোষ্ঠী যেমন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ।
গতকাল একই সময়ে ঢাকার একিউআই ছিল মাত্র ৭৭, যা সহনীয় পর্যায়ে ছিল। ফলে মাত্র একদিনেই রাজধানীর বায়ুমানে অবনতি হয়েছে। বর্তমানে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ষষ্ঠ।
আজকের তালিকায় সবচেয়ে দূষিত শহর হলো উগান্ডার কাম্পালা (একিউআই ১৫৩)। এরপর রয়েছে বাহরাইনের মানামা (১৫৩), দুবাই (১৪৯), কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা (১৩৫) এবং ফিলিপাইনের ম্যানিলা (১১৭)। ঢাকার অবস্থান এদের পরেই।
আইকিউএয়ারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার বাতাসে দূষণের প্রধান উৎস হচ্ছে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা (PM2.5)। এ ধরনের দূষণ শ্বাসতন্ত্র ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়, দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের মতো জটিল রোগেরও কারণ হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬৭ লাখ মানুষ মারা যায়। অন্যদিকে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সৃষ্ট বায়ুদূষণেই প্রতিবছর প্রায় ৫২ লাখ মানুষ মারা যায়।
দূষিত বায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় নাগরিকদের মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া শিল্পকারখানা, ইটভাটা ও নির্মাণকাজে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেমন—
-নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা
-পরিবহনের সময় ট্রাক/লরি ঢেকে নেওয়া
-নির্মাণস্থলে দিনে অন্তত দুবার পানি ছিটানো
-পুরোনো ও ধোঁয়া নির্গতকারী যানবাহন রাস্তায় না নামানো
বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নগরীগুলোর মধ্যে ঢাকা প্রায়শই শীর্ষে অবস্থান করে। আজকের পরিস্থিতি আবারও মনে করিয়ে দিল, রাজধানীর মানুষের জন্য বিশুদ্ধ বাতাস এখন এক বিলাসিতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর পদক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া এ বিপদ থেকে মুক্তি মিলবে না।